১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী সংস্কার কমিশন 'পক্ষপাতমূলক', বলছে 'ট্র্যাডিশনাল শি'

“সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ হলেও কোনো ধর্মীয় পক্ষের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা হয়নি,“ বলেন প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধি নুপা।

নারী সংস্কার কমিশন 'পক্ষপাতমূলক', বলছে 'ট্র্যাডিশনাল শি'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ট্র্যাডিশনাল শি’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 May 2025, 12:56 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:42 PM

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে ‘পক্ষপাতমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম 'ট্র্যাডিশনাল শি'।

প্ল্যাটফর্মটি মনে করে, এই কমিশন গঠনে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান এবং এখানকার ধর্ম ও সংস্কৃতিতে দৃঢ় বিশ্বাসী নারীদের না রেখে এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধি তাবাসসুম নুপা।

তিনি বলেন, “বিদ্যমান নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের বাস্তবায়ন নয়, বরং বিতর্কিত ম্যারেটাল রেইপ আইন প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধের প্রস্তাব সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।” 

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন আদৌ নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে কিনা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৩১৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের নারীদের (বীরাঙ্গনা) বারবার উল্লেখ থাকলেও ২০২৪ সালের নারী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ জননী, নির্যাতিত নারী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও ট্রমা হিলিংয়ের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব নেই।

"যাদের সামর্থ্য নেই, তারা চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং কোথায় পাবেন সেটিও স্পষ্ট নয়।”

নুপা বলেন, “যেসব পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য শহীদ হয়েছেন, সেই নারীরা এখন আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, এটি কমিশনের বিবেচনায় আসেনি।”

ধর্মীয় আইন সংস্কারের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন 'ট্রেডিশনাল শির' এ প্রতিনিধি।

“নারীর প্রতি ধর্মীয় আইন জুলুম সৃষ্টি করে—এ ভাষা ব্যবহার করলেও আলেম-ওলামা বা ধর্মীয় বিশিষ্টজনদের কমিশনের আলোচনায় রাখা হয়নি, যা একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়। উদীচী, ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ হলেও কোনো ধর্মীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। 

"কমিশনের প্রতিবেদনের ৪১-৪৫ নম্বর পৃষ্ঠায় পাহাড়ি গোষ্ঠীর নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থাকে মূলধারার সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে, যেখানে গোত্রভিত্তিক আইন প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তাহলে মুসলমানদের ধর্মীয় আইনকে কেন সিভিল আইনের অধীনে আনা হবে," প্রশ্ন তোলেন নুপা।

সংবাদ সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে মিশকাতুল জান্নাত, নাদিয়া মেহজাবিন ও রেজিয়া খাতুন বকুলও উপস্থিত ছিলেন।