২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রদল নেতার সঙ্গে বিতণ্ডার অডিও ফাঁস, চবির এক হল প্রভোস্টের পদত্যাগ

তবে পদত্যাগের কারণ বলতে চাননি প্রভোস্ট।

বিডিনিউজ২৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 01:42 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে এক শিক্ষার্থীর সিট আরও কিছুদিন বহাল রাখা নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অডিও ফাঁসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেছেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান।

সোমবার রাতে উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে নিজেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগপত্রটি রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানোর কথাও বলেন প্রভোস্ট।

তবে পদত্যাগের কোনো কারণ বলতে চাননি তিনি। তিনি বলেন, “এইগুলো নিয়ে এত কথা আমি আর বাড়াতে চাই না। ছাত্ররা ভালো থাকুক, এটুকুই আমি চাই। তারা মারামারি-ঝগড়াঝাটিতে লিপ্ত না হোক, লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, পরিবেশ শান্ত থাকুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো থাকুক এটুকুই আমার কাম্য। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নাই।”

ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, "আমাদের এক ছোট ভাই, যে আগে থেকেই মেধার ভিত্তিতে সিট পেয়ে হলে থাকত, তার মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ এবং এমফিলে ভর্তির আবেদন করেছে। সে প্রভোস্ট স্যারের কাছে গিয়ে কিছুদিন হলে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করে। কিন্তু স্যার সরাসরি না করে দেন। 

“এরপর ওই ছেলে যখন প্রোভিসি স্যারের সুপারিশ নিয়ে যায়, তখন স্যার তাকে যাচ্ছেতাই অপমান করেন। স্যার তাকে বলেন, তিনি নাকি ভিসি-প্রোভিসি কাউকে গোনেন না। প্রভোস্ট স্যার বলেছেন, ‘তোমার মা-বাবার কি সামর্থ্য নাই তোমাকে বাইরে রাখার’?"

ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এসব কথা শোনার পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোববার প্রভোস্টকে ফোন করেন। তিনি বলেন, এ সময় তারা প্রায় চার মিনিট কথা বলেন।

“কিন্তু আজ তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট করে মাত্র দুই মিনিটের একটা অডিও প্রকাশ করেছে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অডিওটা সর্বপ্রথম ফাঁস করা হয়েছে শিবিরের একটা পেইজ থেকে। এতেইতো বোঝা যায় উনি কোন দলের প্রতি বায়াসড।

“আমি ফোনে স্যারকে বলেছিলাম, আপনি একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মা-বাবা তুলে কথা বলেন? আপনি কি ভিসি-প্রোভিসির চেয়েও বড় হয়ে গেছেন? আপনি তো দেখছি জামায়াত-শিবিরের চেয়েও বড় ক্যাডার হয়ে গেছেন হলে।”

ছাত্রদল নেতা নোমানের দাবি, “ওনার (প্রভোস্ট) পদত্যাগের আসল কারণ কিন্তু আমার ওই ফোনকল না। মূল ঘটনা হলো হলের সিট নিয়ে ওনার অস্বচ্ছতা।”

ছড়িয়ে পড়ে ওই অডিওতে তিনি হলের সিটের জন্য কোনো অবৈধ সুপারিশ করেন নাই দাবি করে বলেন, “কোনো রকম হুমকিও দেই নাই। আমি তো শুধু একজন শিক্ষার্থী হিসেবে হলের সিট বরাদ্দের স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করতে বলেছিলাম। এখন আমার এই জবাবদিহিতা চাওয়াটাকেই 'হুমকি' বলে প্রচার করা হচ্ছে।”

এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলে ‘ছাত্রদলের অবৈধ সিট দখলের অপচেষ্টা‘  হল প্রভোস্টকে হুমকির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।