Published : 03 Sep 2026, 08:49 PM
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার পাশাপাশি শ্রমিক নেতা গীতা রানী কানুর মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করেন। দৈনিক ১৭৯ টাকা মজুরিতে তারা কাজ করেন; আবার এই মজুরিও শর্তসাপেক্ষে। দৈনিক ২৩ কেজি করে চা পাতা সংগ্রহ না করতে পারলে মজুরি থেকে অর্থ কর্তন করা হয়।
“এই মজুরিতে একটা পরিবারের এই বাজারে অমানবিক জীবন-যাপন করতে হয়। তাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারেন না; স্বাধীনভাবে অন্য পেশা বেছে নিতে পারেন না বরং এমন এক বন্দোবস্ত তৈরী করা হয়েছে যাতে চা শ্রমিকের ছেলে-মেয়ে পুনরায় চা শ্রমিক হতে বাধ্য হয়।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “সেই একই অমানবিক জীবন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছেন সেই দাবি মেনে নেয়ার জন্য দাবি জানাই এবং আন্দোলনের নেতা গীতা রানী কানুকে মুক্তি দেবার দাবি জানাই। সরকারকে আমরা বলি, অতীত থেকে শিক্ষা নিন, দমন-পীড়ন করে চা শ্রমিকের নায্য আন্দোলন দমন করা যাবে না।”
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি মামলায় গীতা রানী কানুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ বলেছে, চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ঢুকে মারামারি ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা ওই মামলা ও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মসূচিতে হামলার পর আহত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।