জগন্নাথের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে উপাচার্য করার দাবিতে বিক্ষোভ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “যদি জবি থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া না হয়, তাহলে এই ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ থাকবে। ভিসিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে ভাস্কর্য চত্বরে যান। পরে সেখানে সমাবেশ হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোষণ করে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল হয়ে আছে, সেগুলো উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। কোনো উপাচার্য একটি মানসম্পন্ন লাইব্রেরি, গবেষণাগার স্থাপন করতে পারেননি।
“আর দেরি করার সময় নেই। আমরা জবি থেকেই উপাচার্য চাই। যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য না দেন, তাহলে ছাত্রসমাজ কী করতে পারে আর কী পারে না, তা ৫ অগাস্ট পর্যন্ত দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “কাঠামোগত ও গবেষণার দিক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে উন্নীত হতে পারেনি।
“এর একটাই কারণ, এখানে যারা ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান, তারা শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করেন। সকালে এসে বিকেলে চলে যান। জবি থেকে নেতৃত্ব এলে তিনি সামগ্রিক বিষয়টি বুঝবেন। কিন্তু বাইরে থেকে এলে তিন মাস লাগে শুধু পরিবেশ বুঝতে। আর এর মধ্যেই তিনি একটা বলয়ের ভেতরে ঢুকে যান। তাই আমরা জবি থেকেই ভিসি চাই।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “এটি আমাদের দাবি নয়, অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বানিয়ে রাখা হয়েছে। এখন থেকে যদি জবি থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া না হয়, তাহলে এই ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ থাকবে। ভিসিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।”
একই দাবিতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মাশরিক হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ পদে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না।
“এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই পরবর্তি উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
