Published : 15 Sep 2026, 05:27 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘খারাপ আচরণের’ অভিযোগ তুলে এক প্রাধ্যক্ষকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখলেন একদল শিক্ষার্থী ও আলাওল হল সংসদের নেতারা।
উপাচার্যের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দেন আন্দোলনকারীরা।
প্রাধ্যক্ষ জমালুল আকবর চৌধুরীর ভাষ্য, অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনকারীরা তাকে কিছু জানাননি।
হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ায় এ আন্দোলন করা হচ্ছে বলেও ভাষ্য তার।
এদিন দুপুর ১টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সংকট সমাধানে প্রাধ্যক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তিনি শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত, অপমান করেন বলেও তাদের অভিযোগ।
হল সংসদের জিএস নুরনবী হাসান বলেন, “এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। আমরা তার পদত্যাগ চাই। প্রাধ্যক্ষ স্যারের বিরুদ্ধে ৩৭ জন কর্মচারী-কর্মকর্তা ও ১৭৮ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।”
চলতি বছরের ৫ মে এ হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরী।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হলে তা সমাধানের চেষ্টা করতাম।”
তিনি বলেন, “গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর হলের আবাসন সংকট, ডাইনিং, খেলাধুলা ও সংস্কারকাজে আমি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করায় আমার বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
জমালুল আকবর চৌধুরী বলেন, “দাপ্তরিক কাজে হলে এলে আমাকে কক্ষে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়। কারও অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।
”অভিযোগের সমাধানের সুযোগ না দিয়ে এভাবে আটকে রাখাকে ‘মব কালচার’ বলে মনে করি। এটি আইনি বা ন্যায়সংগত নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর দুটি দাবিনামা জমা দেওয়া হয়।
“এরপর আমরা দুজন হাউজ টিউটরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসি। উপাচার্য আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রশাসনের সাধ্যের মধ্যে থাকা তাদের সব যৌক্তিক দাবি অতি দ্রুত মেনে নেওয়া হবে। উপাচার্যের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেয়।”
তালা খুলে দেওয়ার পর হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ”ভিসি স্যারের নির্দেশে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি এখানে এসেছিল। স্যাররা আমাদের বুঝিয়েছেন যে, আমাদের যে দাবি, তা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তালা খুলে দিয়েছি।”