Published : 03 Sep 2025, 08:38 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে ‘গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ মনোনীত প্যানেল বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ থেকে ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, “বৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি আবার ডাকসুকে বানচাল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য বসা হয়। কিন্তু আমাদের কোনো পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে কাদের বলেন, “বর্তমান যে মেকানিজম করা হয়েছে, তাতে ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভোট দেওয়া সম্ভব না। শিক্ষার্থীদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে।”
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের জিএস প্রার্থী আবু বাকের বলেন, “ভোট গণনার মেশিন কম, সে কারণে তারা কেন্দ্র কম রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের পর আমরা সন্দেহ করেছিলাম। শিক্ষার্থীরা যেন ভোট দিতে না পারে, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন কমিশন ছক এঁকেছে।”
তিনি বলেন, “কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে তিনটি হলকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে অনেক ভবন ফাঁকা, চাইলেই অন্য ভবনে ভোট নিতে পারত। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, তারা আমাদের কথা শোনেননি। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে। অথচ এটিকে খুব সহজেই সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটে নিলে শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে সুবিধা হয়। এগুলোতে ভোট কেন্দ্র করলে ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজ হত।
“হলপাড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা কলাভবন সহজ হয়। কিন্তু তাদের কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে উদয়ন স্কুল। অন্যদিকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং জগন্নাথ হল উদয়ন স্কুলের কাছে হলেও তাদের দেওয়া হয়েছে শারিরীক শিক্ষা কেন্দ্রে। চাইলেই শামসুন নাহার হলের কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেত। কিন্তু তাদের কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল।”
ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়ে আবু বাকের বলেন, “কার্জন হল এলাকায় শহীদুল্লাহ হল এবং অমর একুশে হলকে নতুন ২২ তলা ভবনে দেওয়া যেতে পারে। ফজলুল হক মুসলিম হলকে কার্জন হলের পরীক্ষাকেন্দ্রে রাখা যেতে পারে। সুফিয়া কামাল হলকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা স্বাগত জানাই। বিজয় একাত্তর হল এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের কেন্দ্রকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে দেওয়া যেতে পারে। তবে কলাভবন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং কবি জসীম উদ্দীন হলের কেন্দ্র দেওয়া যেতে পারে।”
সিনেট ভবন এলাকায় সূর্যসেন এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল কেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্তকে ‘যথাযথ’ মনে করেন বাকের।
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং স্যার এ এফ রহমান হলকে দেওয়া যেতে পারে। উদয়ন স্কুলে জগন্নাথ হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে দেওয়া যেতে পারে এবং শামসুন নাহার হলকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেতে পারে।
“এ ছাড়া ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং বাংলাদেশ কুয়েত-কুয়েত মৈত্রী হলের কেন্দ্র সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে দেওয়া যেতে পারে।”
বাকের বলেন, “আমরা যেভাবে সুপারিশ করেছি, তাতে কেন্দ্র হয় মাত্র নয়টা। একটু পুনর্বিন্যাস করলেই এটি করা সম্ভব।”
এদিকে নির্বাচনের আগে ও পরে তিন দিন ছুটির থাকায় ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটদানের পরদিন পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। ফলে অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোট পুরোপুরি কাস্ট হবে কী না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
“অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ কী, তা নিয়ে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। বন্ধের কারণে ভোটের দিন আসবেন কী না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”