Published : 06 Jan 2026, 09:05 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট শেষে গণনা করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।
গণনার সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে একটি ভোটে গড়মিল হওয়ায় ভোট গণনার কাজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই থমকে আছে।
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাইকে ঘোষণা দেন, “ওএমআর মেশিনে আমরা তিন দিন ট্রায়াল করেছি; তখন কোনো সমস্যা ছিল না। টেকনিক্যাল কারণে ত্রুটি ধরা পড়েছে।
“এখন কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ভিপি জিএস প্রার্থী যারা আছেন, তাদের নিয়ে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে বসব আমরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা মিডিয়াকে জানিয়ে দেব।”
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়।
কিন্তু মিলনায়তনে ভিড় বেড়ে গেলে মিনিট পনের পর গণনার কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে আধা ঘণ্টা পর ফের গণনা শুরু হয়।
কিন্তু এরপর গড়মিল ধরা পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবারও থমকে যায় গণনার কাজ। রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত সেই কাজ আর শুরু করা যায়নি।

এ কাজে যুক্ত একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জকসুর ২১টি পদের জন্য ৩ পাতারওএমআর শিটে ভোট দিয়েছেন এক একজন ভোটার। প্রার্থীর ডানপাশের বর্গাকার ছোট বক্সে ক্রস (X) চিহ্নের মাধ্যমে তাদের ২১টি ভোট দিতে হয়েছে।
শুরুতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা শুরু হয়। একজন ভোটারের ব্যালটের তিনটি পাতা তিনটি মেশিন দেওয়া হয় গণনার জন্য।
সেই গণনা ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য ওই একই ব্যালটের তিন পাতা দেওয়া হয় অন্য তিন ওএমআর মেশিনে।
কিন্তু যাচাই করার এ কাজে একটি ভোটের পার্থক্য হওয়ায় বিপত্তিতে পড়ে নির্বাচন কমিশন। কেন এটা ঘটছে, তা বুঝতে না পারায় ভোট গণনার কাজ স্থগিত রাখা হয়।
অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম রাত ৯টার দিকে মাইকে বলেন, “দুইবারে গণনার ক্ষেত্রে আমরা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধকতা কোথায় ঘটেছে সেটা আমরা ফাইন্ড আউট করে কিছুক্ষণের মধ্যে জানিয়ে দেব।”
কিন্তু গলদ কোথায় সেটা খুঁজে না পাওয়ায় আধা ঘণ্টা পর ভিপি জিএস প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার ঘোষণা দেন এই নির্বাচন কমিশনার।
এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে কী হবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেক্ষেত্রে হাতে গণনার কথা ভাবতে হবে।”
জকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। সেখানে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে এর আগে ধারণা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়েছে। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১২৪২ জন। সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
হল সংসদের ব্যালট ছিল এক পাতার। সেসব ব্যালট গোনার কাজ এখনো শুরু হয়নি।
পুরনো খবর