১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কোটা সংস্কারের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মৌন সমাবেশ

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের সর্বস্তরে কোটা সংস্কার বিষয়ক যেসব আন্দোলন হচ্ছে তা ‘অত্যন্ত যৌক্তিক’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2024, 04:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:57 AM

সরকারি চাকরিতে কোটার ‘যৌক্তিক’ সংস্কারের দাবিতে ১৫ মিনিটের মৌন সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে এ সমাবেশ হয়।

শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়,বৈষম্যর ঠাঁই নাই’; ‘মেধাই হবে যোগ্যতা, ধ্বংস হবে কোটাপ্রথা’; ‘ঘরে ঘরে খবর দে, কোটাপ্রথার কবর দে’; ‘আমার কোনো ব্রেইন নাই, তাই আমি কোটা চাই’; ‘যদি হয় কোটার জয়, মেধার হবে পরাজয়’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মৌন সমাবেশের শেষে সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে এক লিখিত বিবৃতিতে তারা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতির কথা বলেন। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের সর্বস্তরে কোটা সংস্কার বিষয়ক যেসব আন্দোলন হচ্ছে তা ‘অত্যন্ত যৌক্তিক’। 

“আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করছি এবং আদালতের প্রতি মেধার মূল্যায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অতি দ্রুত রায় প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট রায় দেওয়ার পর থেকেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। 

তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ কোটা (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যাতীত) বাদ দিতে হবে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। আর ‘দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক’ আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

রবি ও সোমবার ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করে তারা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। তাদের অবরোধের কারণে শহরজুড়ে ব্যাপক যানজটে নাকাল হতে হয় নাগরিকদের।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ব্যানারে এই আন্দোলন সমন্বয়ের জন্য ৬৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ার করেছে।

বিএনপিসহ সমমনা বিভিন্ন দল শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের এ আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে বলা হচ্ছে ‘অযৌক্তিক’।