০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রীর পোশাক নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে ঢাবি শিক্ষকের পাঠদান বন্ধ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে একাডেমিক কমিটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 06:29 PM

Updated : 08 Oct 2026, 06:29 PM

শ্রেণিকক্ষে এক ছাত্রীর পোশাক নিয়ে ‘মন্তব্য’ করার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার একাডেমিক কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আহমদ বশীর।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাস্টার্সের ক্লাসে নিকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে।

“গতকাল (বুধবার) উনার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ এসেছে। আজকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে তিনি যেই কোর্সগুলো নিতেন, সেগুলো থেকে বিরত রাখা হয়েছে ও আরেকজনকে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।”

শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।

শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রীর হিজাব নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ অভিযোগ তুলেছেন তার সহপাঠী সুমি আকতার।

দীর্ঘ ফেইসবুক পোস্টে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “তাসনিম সিরাজ মাহবুব আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক, খুবই অপমানজনকভাবে ও অসম্মানজনকভাবে নিকাবপরা একজন শিক্ষার্থীকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ও সন্ত্রাসী বলে অপবাদ দিয়েছেন।

“সেটার প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় আমার উপর চড়াও হয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা সবাই একসঙ্গে ক্লাস বর্জন করি, তখনও তিনি আমাদের নিয়ে যা তা বলে গেছেন।”

রাইসা মণি সুমি নামের ফেইসবুক আইডি থেকে ওই পোস্ট করা হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তাসনিম সিরাজ মাহবুব মন্তব্য করেন বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়।

সুমি আক্তারের অভিযোগ, “এসব বলতে বলতেই উনার বামে বসা পরিপূর্ণ পর্দা করে আসা আমাদের ক্লাসমেটের উপর চড়াও হয়। উনার ভাষ্যমতে, পর্দা এভাবে করে না, মুখ খোলা রাখা যায়, হাত পা ঢাকতে হয় না।

“এতটুকুও সহ্য করলাম সবাই। কিন্তু এরপর বললেন, উনি নাকি আনকমফোর্টেবল ও আনসেইফ ফিল করছেন, কারণ নিকাব পড়া শিক্ষার্থী তাকে ডিস্ট্র্যাক্ট (মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটানো) করছে। মেয়েটা যেন সামনে আর না বসে। সে যেন সবার সঙ্গে পেছনে বসে। তখনই আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলাম।”

অভিযোগের ব্যাপারে শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, “তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এসেছে। একটি অভিযোগ সেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ও অপরটি পুরো ব্যাচের পক্ষ থেকে।

“এ নিয়ে আমরা আজকে একটা এসি (অ্যাকাডেমিক কমিটি) মিটিং করেছি। মিটিংয়ে তিনি যে কোর্সগুলো নিতেন, সেগুলো আরেকজনকে রিঅ্যাসাইন করা হয়েছে। এছাড়া উনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।”

পোশাক নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডাকসু।