Published : 25 Jan 2026, 11:29 PM
ডাকসু অতীতে মাদকের ‘আড্ডাখানা এবং বেশ্যাখানা’ ছিল মন্তব্য করা জামায়াত নেতা শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির ওই মন্তেব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন তারা।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, "ডাকসু নিয়ে একটা দলের নেতা কীভাবে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে! আমরা এখন ২০২৬ সালে বসবাস করছি। আমরা মেয়েরা নিজেদের অধিকার নিয়ে, নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে, সামাজিক মুক্তি নিয়ে আমরা এখনো যথেষ্ট পরিমাণে সচেতন।
“নারীরা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খুব কষ্ট করে আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যন্ত এসেছে। সেই নারীদের নিয়েই এমন মন্তব্য গ্ৰহণযোগ্য নয়। আমার চাই, উক্ত জামায়ত নেতা যেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়।"
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের জিএস সাদমান আব্দুলাহ বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত আছে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান , ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ২৪ এর অভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনা। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মেনে নিব না।”
তিনি বলেন, “ডাকসুর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি দেখতে পাইনি। কিন্তু অন্য কোনো ইস্যুতে ডাকসুর ব্যানারে প্রতিবাদ জানানো হয়। আমি প্রত্যেক হল সংসদ থেকে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় ডাকসুকে মাদকের ‘আড্ডাখানা এবং বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এ নেতা।
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
“তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি এটা উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।”