Published : 31 Aug 2026, 06:48 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে নিয়ে ফেইসবুক গ্রুপে ‘বাজে মন্তব্যের’ অভিযোগ উঠেছে তারই বিভাগের পাঁচ জুনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রী।
প্রক্টর দপ্তর এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ সেল’-এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থীরা হলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, জোবায়দা বিনতে হোসেন, সোলায়মান আবির, তানভীর হোসেন ও লাবণ্য তিশা। তাদের মধ্যে মারুফ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগকারী ছাত্রী রোববার রাতে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে তার ভাষ্য তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, একটি ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে ক্লাস প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরে পাঁচ জুনিয়র নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তার একটি ছবি বিকৃত করে ওই গ্রুপে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুনিয়রদের একজন মারুফ পাল্টা অভিযোগ তুলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনাটির সূত্রপাত এখন নয়। এর আগেও সিনিয়ররা আমাদের বিভিন্নভাবে র্যাগিং, হুমকি-ধমকি এবং পরিবার ও বংশপরিচয় নিয়ে অপমানজনক কথা বলতেন।
“একবার টিউশন শেষে মিটিংয়ে দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় দুই ব্যাচের সামনে আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।”
তিনি বলেন, রোববার ফের তাদের এক নারী সহপাঠীকে নিয়ে ‘গালাগালি’ করা হলে দুই ব্যাচের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
অভিযোগের বাকি চার জুনিয়র শিক্ষার্থীর ভাষ্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর কামরুল হোসেন বলেন, “আজকে দুপুরে আমরা বাংলা বিভাগের ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্ত দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছি। আমরা দুই পক্ষের কথা শুনেছি। ঘটনা শুনে আমাদের প্রসিড করতে হচ্ছে।
“আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ দেখলাম, এটা আসলে সামনাসামনি ঘটা কোনো ঘটনা নয়। ঘটনাটি অনলাইনে ঘটায় ‘র্যাগিং অ্যান্ড বুলিং সেল’ এ বিষয়টি পাঠাব।”
জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ভাষ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা বলতে চেয়েছিল যে, তাদের সাথে অতীতে কী হয়েছে, না হয়েছে। তবে এই ঘটনার সাথে র্যাগিংয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
“সেরকম কিছু ঘটে থাকলে তো তারা অভিযোগ করবে, এই ঘটনার কাউন্টার তো তা হতে পারে না। এর পরেও তাদের বলেছি এমন কিছু হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে।”
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “আমরা সবসময় একটি নারীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য সংগ্রাম করেছি; যেখানে বোনেরা নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে যে বা যারা বিঘ্নিত করবে. তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, অভিযোগ ওঠা পাঁচজনের মধ্যে চারজন উপস্থিত ছিলেন।
“তারা তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ক্ষমা না করে আইনি পদক্ষেপ নিবে বলে আমাদের জানিয়েছেন। তাই আমরা ভিসি স্যারের সাথে দেখা করে দাবি জানাব, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অভিযুক্তরা শাস্তির আওতায় আসে।”