১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিট: জবিতে সাত শারীরিক প্রতিবন্ধী বসলেন পরীক্ষায়

শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এক ঘণ্টার এই ইউনিটের পরীক্ষায় ৬ হাজার আসনের বিপরীতে ভর্তিযুদ্ধে নামের ৯৪ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Feb 2025, 03:52 PM

Updated : 01 Sep 2026, 09:05 PM

গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ৬ হাজার আসনের বিপরীতে ভর্তিযুদ্ধে নামেন ৯৪ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে লড়ছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৭৭৩ জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে সাতজন শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান। 

সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তারা হলেন- ইফফাত জাহান বিথী, আবু কারেজ, হুমায়রা জাহান জিনিত, নুসরাত জাহান কাকলী, হিজবুল্লাহ। তারা প্রত্যেককেই শ্রতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

বাকি দু'জনের মধ্যে একজনের হাত নেই এবং আরেকজনের হাতে সমস্যা রয়েছে। এ দু'জন শিক্ষার্থী হলেন- মো. মাসুদ শাহরিয়ার, অপরজন আসফিয়া তাসনিম রুহী। এই দুজনও শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষায় বসেন। 

পরীক্ষা শেষে নুসরাত জাহান কাকলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ আব্বু আমাকে সঙ্গে করে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। এখানকার রোভারমেট এক  আপু আমাকে মেডিকেল সেন্টার পর্যন্ত পৌছে দেন। এখানে আমাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সবাই খুবই আন্তরিক ছিল। শ্রতি লেখকও ভালো ছিলেন, পরীক্ষাও তাই ভালো হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উপ প্রধান চিকিৎসক মিতা শবনম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে আমাদেরকে মোট ছয়জন শারীরিক সমস্যাজনিত শিক্ষার্থীর তালিকা দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী আমরা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে হাত নেই এমন একজন পরীক্ষা দিতে এসেছিল। এছাড়া পেট ব্যথা, পা ব্যথা নিয়েও দুজন শিক্ষার্থী আসেন মেডিকেল সেন্টারে। আমরা সবার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নিয়েছি।”

মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, “ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। আমি পরিদর্শন করে দেখেছি তারা সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরও ৩টি উপ কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মূল কেন্দ্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৩৫২ জন, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার কলেজ ২ হাজার ৭২১জন, ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে ৩ হাজার ২০০ এবং মতিঝিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ হাজার ৫০০ পরীক্ষার্থী। 

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ‘এ’  ইউনিটের মধ্য দিয়ে গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। আগামী ১০ মে বাণিজ্য বিভাগ অর্থাৎ ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।