১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জবিতে অনুষ্ঠান: শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতির নোটিস, ‘অ্যাটেনডেন্স’ নেওয়ার কথা

“নোটিসের শেষ লাইনটিও আমি নিজেই লিখেছি, সেটি কেবল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, অন্য কোনো কারণে নয়।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 05:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভাগের সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ। 

একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাজিরা (অ্যাটেনডেন্স) নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

বুধবার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিভাগরে উদ্যোগে ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।”

তার নিচে হাতে লেখা হয়েছে, “এবার অবশ্যই অ্যাটেনডেন্স নেয়া হবে। সকল সিআর-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা বলেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর। 

তিনি বলছেন, অনুষ্ঠানে যেন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়, সেজন্য এমন নোটিস দেওয়া। তবে অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘অ্যাটেনডেন্স’ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। 

এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম, আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতিও কম হয়। সম্ভবত সে কারণেই স্যার এমন নোটিস দিয়েছেন। 

অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীর

অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীর

“তবে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে অ্যাটেনডেন্স নেওয়ার বিষয়টি নোটিসে উল্লেখ করা ঠিক হয়নি। অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বা জরুরি কাজ থাকতে পারে, তাদের জন্য বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারে।”

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিসতার জাহান কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বিভাগে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক সময় ১০ জন শিক্ষার্থীও পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই মূলত এই নোটিস দেওয়া হয়েছিল।”

বাধ্যতামূলক উপস্থিতি ও অ্যাটেনডেন্সের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “আজই আমাদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। নোটিসের শেষ লাইনটিও আমি নিজেই লিখেছি, সেটি কেবল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, অন্য কোনো কারণে নয়।”