১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শাকসু: তফসিল দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতে শিক্ষার্থীরা

এর আগে সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা না করায় ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন আন্দোলনকারীরা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Nov 2025, 10:58 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) নির্বাচনির তফসিল ঘোষণার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে একদল শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর ফটকে তালা দেন তারা। এরপর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।

মধ্যরাত পেরিয়ে গেলে বাকি রাত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে কয়েল, মশালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসেন আন্দোলনরতরা।

এদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টায় প্রশাসনিক ভবন ১ এর সংবাদ সম্মেলন কক্ষে শাকসু নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করার কথা ছিল।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাকসু বানচালের উদ্দেশ্যে ‘উপর মহলের নির্দেশে’ তফসিল ঘোষণা স্থগিত করা হয়।

এরপর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ছাত্র সংসদের তফসিল ঘোষণার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সেখানে রাত ৯টা পর্যন্ত অবস্থান করার পর তফসিলের ঘোষণার জন্য উপাচার্যকে মোবাইল ফোনে আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেই সময় শেষ হলে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু নিয়ে তাল বাহানা, চলবে না-চলবে না', 'শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার?', '২৪ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠো আরেকবার', শাকসু চাই- দিতে হবে, নইলে গতি ছাড়তে হবে', ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও' বলে স্লোগান দেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, "আজ তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও কোনো এক তৃতীয় পক্ষের ইশারায় তা স্থগিত করা হয়েছে। শাকসু হচ্ছে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার। তাই আমাদের এ অধিকার নিয়ে যারা তালবাহানা করার চেষ্টা করবে, তাদেরকে হীন উদ্দেশ্যকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

"নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ব্যতীত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।"

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিশির বলেন, " তফসিল ঘোষণা ব্যতীত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমরা শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছি। এ ক্যাম্পাসের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী শাকসু চায়।

"প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব, তবুও নির্বাচনী তফসিল ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাচ্ছি না।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন বলেন, "শাকসু আমরাও চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের অংশীজন থাকে, নানা মেকানিজমও থাকে। আজকে নানা জটিলতার কারণে তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবে কালকে সন্ধ্যার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সভাপতি উপাচার্য তফসিল ঘোষণা দেবেন।"

এরপর ৯ বা ১০ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচনের আশ্বাস পেয়ে মধ্যরাতে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনরতরা।

উপাচার্য অধ্যাপক সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী রাত পৌনে ১টার দিকে এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, "‘শুক্রবার সন্ধ্যার পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী ৯ ডিসেম্বরে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

“এটা নিবর্বাচন কমিশনকে জানানোর পরে তারা যদি দ্বিমত পোষণ করে, আমরা কমিশনকে সুপারিশ করব সেটা যেন ১০ ডিসেম্বর পার না হয়।”