Published : 09 Sep 2025, 09:24 AM
সকাল ৮টা বাজতেই শুরু হয়েছে ডাকসুর ভোটগ্রহণ; তার আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকে ভোটাররা।
সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দেখা গেছে প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা লাইন। কেন্দ্রটি শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে একদল ছাত্রী হইচই করতে করতে ছুটলেন লাইনে দাঁড়াতে। ভ্যাপসা গরমের কারণে ঘামছেন সবাই। প্রার্থীদের প্রচারপত্র হাতে নিয়ে বাতাস করতে দেখা যায় অনেককে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার মুখগুলোতে চলছে তল্লাশি। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, সঙ্গে পুলিশ।
ভোটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো একজন ছাত্রী বললেন, অনেকদিন পর ডাকসুর ভোট হচ্ছে। তিনি জীবনে প্রথমবার এখানেই ভোট দিচ্ছেন। তাই অনেক উৎসাহ নিয়ে সকাল সকাল বাসা থেকে চলে এসেছেন। কিন্তু এসেই পড়েছেন দীর্ঘ লাইনে।
ইউনিভারসিটি ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এক ভোটার বললেন, “অনেকগুলো ভোট দিতে হচ্ছে। তার প্রায় সাত মিনিট লেগেছে শুধু ভোট দিতে।
“কেন্দ্রের ভেতরের ঢোকার পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও শনাক্তকরণের বিষয় রয়েছে।”
ভোট দিয়ে বের হওয়া এক ছাত্রী বলেন, ঢোকার পর পরিচয় পত্রের নম্বর ধরে একটি শিটে স্বাক্ষর করতে হয়। এরপর তাকে দুটো ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য, আরেকটি হল সংসদের জন্য।
“ভোট বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যালট পেপার এ পছন্দের প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিট সময় লেগেছে।”
ছয় বছর পর আয়োজিত ডাকসু ও হল সংসদের এই নির্বাচনে নিজেদের রায় দেবেন প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়েছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৮১০টি বুথে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। অন্তত ১০টি প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবেও লড়ছেন অনেকে।
সকাল ৮টা বাজার আগে থেকেই টিএসসি কেন্দ্রের সামনে দেখা যায় ভোট দেওয়ার জন্য দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছিলেন।
তাদের একজন সুমাইয়া জাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবার আগে ভোট দেব– এই আশায় সকাল সকালই এসেছিলাম। এসে দেখি আমার আগেই আরো অনেকে চলে আসছে।”
পৌনে ৮টায় সাংবাদিকদের সামনে ভোটের বাক্স সিলগালা করা হয়। পরে ৮টা ৭ মিনিট থেকে এই কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এরপর ৮টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
টিএসসি কেন্দ্রের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন তো মাত্র ভোটগ্রহণ শুরু করলাম। এখনই কোনো মন্তব্য করবো না। কিছুক্ষণ পরে কথা বলবো।”
|
কোন কেন্দ্রে কত ভোট |
|||
|
কেন্দ্র |
কেন্দ্রের মোট ভোট |
হল |
হলের ভোট |
|
কার্জন হল কেন্দ্র |
৫০৭৭ |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল |
২০০৫ |
|
অমর একুশে হল |
১৩০০ |
||
|
ফজলুল হক মুসলিম হল |
১৭৭২ |
||
|
শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র |
৪৮৫৩ |
জগন্নাথ হল |
২২২৫ |
|
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল |
১৯৬৩ |
||
|
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল |
৬৬৫ |
||
|
ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) |
৫৬৬৫ |
রোকেয়া হল |
৫৬৬৫ |
|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র |
৪৭৫৫ |
বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল |
২১১০ |
|
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল |
২৬৪৫ |
||
|
সিনেট ভবন কেন্দ্র |
৪৮৩০ |
স্যার এ এফ রহমান হল |
১৩৮০ |
|
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল |
১৪০৭ |
||
|
বিজয় একাত্তর হল |
২০৪৩ |
||
|
উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ |
৬১৫৫ |
সূর্যসেন হল |
১৪৯৫ |
|
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল |
১৭৫৩ |
||
|
শেখ মুজিবুর রহমান হল |
১৬০৯ |
||
|
কবি জসীম উদদীন হল |
১২৯৮ |
||
|
ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র |
৪৪৪৩ |
কবি সুফিয়া কামাল হল |
৪৪৪৩ |
|
ইউ ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ |
৪০৯৬ |
শামসুন নাহার হল |
৪০৯৬ |
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে টিএসসি কেন্দ্রে আসেন বাগছাসের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোট শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট চলছে। সুষ্ঠ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আশা করি, তারা আমাদেরকে বিজয়ী করবেন।”
সকাল সাড়ে ১০টায় কার্জন হলে তিনি ভোট দেবেন বলে জানান।