২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জকসু নির্বাচন: শিবির প্যানেলের ভিপি-জিএসকে শোকজ

কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই জবাব চাওয়া হয়েছে নোটিসে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Dec 2025, 09:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভুল তথ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি ও জিএস প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান এ সংক্রান্ত নোটিস দিয়েছেন।

নোটিসে বলা হয়, গত ২৭ নভেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলটির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন প্রার্থী প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার এবং জবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর’ বক্তব্য দিয়েছেন, যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ও হল শিক্ষার্থী সংসদসমূহের গঠন ও পরিচালনা বিধিমালা এবং জকসু নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে নোটিসে।

জকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। এর ভিপি প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম। আর সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ হয়েছেন জিএস প্রার্থী।

শোকজের বিষয়ে আব্দুল আলিম আরিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা কখনোই এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করিনি, যার পক্ষে আমাদের কাছে তথ্য–উপাত্ত ও যৌক্তিক ভিত্তি ছিল না। যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে আমরা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেছি।

“নির্বাচন কমিশনার আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন, আমরা সেগুলোকে অস্পষ্ট ও অসংগত বলে মনে করছি। তবুও আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশনের পাঠানো শোকজ নোটিশের জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা আশা করি, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করবে।”

গত ২৭ নভেম্বর জকসু নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ ও ‘নির্বাচন পেছানোসহ নির্বাচন বানচালের’ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেক সদস্য ছাত্রদল ও তাদের সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রার্থীকে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অভিনন্দন জানানো, ছাত্রদলের সমর্থিত প্যানেলের ছাত্রী হলে উপহার দেওয়া, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক এবং পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিকের একটি মন্তব্যকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ করা হয়।