Published : 10 Sep 2026, 05:49 PM
আত্মহত্যা প্রতিরোধে উন্নত মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফারজানা রহমান।
তিনি বলেছেন, “সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগও নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)’ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
ডা. ফারজানা রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৭ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।
ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশনের (বিটিএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। এর অর্থ হলো—এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করে।
তিনি বলেন, “যারা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা দরকার।
“আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণা এবং কষ্টের। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তার কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য।”
জয়শ্রী জামান বলেন, “অধিকাংশ মানুষ জানে না বা বিশ্বাস করে না যে, আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়।
“কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেয়। এ সময় যদি তাৎক্ষণিক তার প্রতি সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রতিরোধ সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস, ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫ এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।