Published : 28 Sep 2024, 01:26 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে ক্যাম্পাসে আসাযাওয়া করতে পারেন সেজন্য তাদেরকে পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এজন্য অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
এছাড়া ক্যাম্পাসে ছিন্নমূল, ভবঘুরে মানুষ, অযাচিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন।
শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আজীবন সদস্যদের অ্যালামনাই ইতোমধ্যে পরিচয়পত্র দিয়েছে। অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি হলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এ বিষয়ে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং অ্যালামনাইয়ের সঙ্গে শেয়ার করেছি।
“আমরা তাদেরকে বলব, যারা মেম্বার হবে তাদের যেন কার্ড দেয়। নানা কাজে ক্যাম্পাসে অ্যালামনাইদের একটা ওনারশিপ থাকে। ডিপার্টমেন্টে আসে, বিভিন্ন প্রোগ্রামে আসতে হয়। আমাদের কথা হয়েছে, যাতে তারা এটাকে এক্সপ্লোর করেন, মেম্বারশিপ নিশ্চিত করে কার্ডগুলো যেন দেন। ক্যাম্পাসে তারা যেন কার্ডটা ব্যবহার করতে পারেন।”
তিনি বলেন, ভবঘুরে এবং মাদকাসক্তদের সরিয়ে দিলেও আবার তারা ক্যাম্পাসে চলে আসে। তাদের বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিশ্ববিদালয়।
“তাদের কিছু ম্যাকানিজম আছে, কিছু সেন্টার আছে ভবঘুরেদের জন্য। সেখানে তাদের নিয়ে সুস্থ করে বা পুনর্বাসনের একটা ব্যবস্থা করার মেকানিজম আছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরও কিছু বিষয় আছে। আমরা তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। আমলাতান্ত্রিক একটা প্রক্রিয়া আছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগছে। এটা করা হলে আমাদের ক্যাম্পাসটাও একটু নিরাপদ হলো আর তাদেরও একটা ব্যবস্থা হলো।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নানা কাজে আসেন। তাদের বিষয়ে কি হবে এমন প্রশ্নে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া গণপরিবহনের বাস যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ না করে সে বিষয়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সহায়তা করবে।
“তাদের অনেকে আসেন জেনুইন প্রয়োজনে। বাইরের লোকজনের বিষয়টি আমরা একটু সময় নিয়ে দেখব। আগে যদি ভবঘুরে, মাদকসেবী আর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে পরে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে। আমরা মূলত ফোকাস করছি যেগুলোতে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।”
সা্ইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশার চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
“আমাদের পরিকল্পনা হলো ক্যাম্পাসে নিয়মিত রিকশা আছে, তাদের চেনা যায় এমন একটা ব্যবস্থা আমরা করব। বাকীরা ড্রপ অ্যান্ড পিক পদ্ধতিতে চলবে। যাত্রী নিয়ে আসবে, নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে। কোথাও দাঁড়াতে পারবে না।”
গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সব আবাসিক, অনাবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার সময়ে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। সেদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করার পরিকল্পনায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে বহিরাগতমুক্ত করার লক্ষ্যে অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে অভিযান পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে অবস্থানকালীন প্রত্যেকে শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা যাচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের উপযুক্ত প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।"