Published : 06 Aug 2026, 03:44 PM
হামলার বিচার দাবিতে স্মারকলিপি দিতে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তার মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা।
বৃহস্পতিবার সকালে জকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তারা উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের কাছে তিন পৃষ্ঠার একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত এক সেমিনারে ঢোকা নিয়ে প্রথমে ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ান ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে যা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
বুধবার জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা হয়েছে। জকসু নেতাদের অভিযোগ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল এ হামলা করেছে।
সংঘর্ষ ও হামলার পর সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনটি গেট বন্ধ রেখে শুধু মূল ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গেটের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সামনে তারা অবস্থান নেয় ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় ছাত্রদল ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা গেছে।
এর মধ্যেই জকসু নেতারা স্মারকলিপি দিতে ক্যাম্পাসে আসেন।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, সাত একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেছিলেন।
কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নেন এবং অডিটোরিয়াম থেকে বের করে দেন। পরে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে প্রক্টর আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে ‘সিন ক্রিয়েট করে’ সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসময় ছাত্রদল ও বহিরাগতদের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধি এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ অনেকে আহত হন বলে স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ক্যাম্পাস, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও আনা হয়।
স্মারকলিপি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “ছাত্রদলের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছি এবং উপাচার্যের নির্দেশনায় শান্তিপূর্ণভাবে স্মারকলিপি দিয়েছি।”
বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে রিয়াজুল বলেন, “প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। আমরা চাই, আগামী তিন দিনের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করে তারা তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিক।”
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর জকসুর নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনের কাছে মেডিকেল সেন্টারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় ছাত্রদল ও স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান।
জকসুর ৯ দফা দাবি হল-
• প্রক্টরের পদত্যাগ এবং তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা।
• হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থী হলে স্থায়ী বহিষ্কার করা।
• বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা করা।
• ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অছাত্রদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন।
• সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা।
• আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
• ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
• আহতদের দেখতে হাসপাতালে না যাওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টদের অপসারণ।
• অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে, হামলার অভিযোগ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রদল তাদের ওপর সরাসরি কোনো হামলা করেনি। এখানে দুই পক্ষের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হইছে। তাদের মধ্য থেকে সেদিন ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী বলে উসকে দিচ্ছিল। তারা ছাত্রদলের ওপর মব সৃষ্টি করতে আসলে ছাত্রদলের ছোট ভাইদের সাথে তাদের উত্তপ্তবাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়।
“আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বরং আহতদের উদ্ধার করে রিকশায় তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। শিবিরের রিয়াজুল ও আরিফকে আমরা নিরাপদে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।”
আগের খবর: