Published : 30 Dec 2025, 06:27 PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর একদল শিক্ষককে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইছ উদদীন বলেন, এদিন সকালে তিনি নিজ বিভাগে অ্যাকাডেমিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় ৩০-৪০ জনের একটি দল তাকে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখে।
সিসিটিভি ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এক যুবক দৌড়ে এসে বিভাগের কলাপসিবল গেইটে তালা দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে একদল শিক্ষার্থী সেখানে ‘অশ্রাব্য’ স্লোগান ও ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ প্রদর্শন করে।
এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করেও ‘দালাল, দালাল’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ অধ্যাপক রইছের।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রথম জকসুর ভোট হওয়ার কথা ছিল। তার আগে ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান।
এ খবরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট জরুরি সভা করে ভোট স্থগিত করে।
ভোট স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা সাড়ে ৯টায় ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ এবং ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরাও এতে শামিল হয়।
এসময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিএনপিপন্থি শিক্ষক নেতা ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইছ উদদীনের কক্ষ ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। একপর্যায়ে ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করা হয়। এসময় রইছ উদদীনের কক্ষে থাকা শিক্ষক সমিতির নেতাসহ কয়েকজন শিক্ষক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া ছিল না।
সিসিটিভি ভিডিও দেখে ‘প্রকৃত’ দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে আরিফ বলেন, অতীতেও কখনো ছাত্রশিবির শিক্ষক হেনস্তায় ছিল না।
এদিকে ভোট স্থগিতের পেছনে অধ্যাপক রইছের হাত রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই সেখানে ক্ষোভ ঝাড়েন।
তবে তাদের অভিযোগ নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইছ উদদীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সিন্ডিকেট সভায় সকল সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই জকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমি সভায় নির্বাক ছিলাম।
“অথচ নির্দিষ্ট কিছু পেইজ এবং কতিপয় শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর হয়ে আমার দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছেন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি বলেন, “আমাকে তালাবদ্ধ করা মানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা শিক্ষক সমাজকে তালাবদ্ধ করা। আমার উপরে যদি এই মব হতে পারে, তবে সাধারণ শিক্ষকদের নিরাপত্তা কোন জায়গায়?
“বিনা অপরাধে কারও দিকে সন্দেহের তীর ছোড়া এবং চরিত্র হরণ করা কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না।”
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোশাররাফ হোসেন বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অপরাধীদের বহিষ্কার করতে হবে অথবা শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
“অন্যথায় আমরা সাধারণ সভা ডেকে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।”