Published : 21 Oct 2022, 12:02 AM
পাঁচ অর্থবছরে বিক্রি কম দেখিয়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মোটরবাইক ও গাড়ি সংযোজনের দেশীয় কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই গোয়েন্দা উইং বলছে, ওই ভ্যাট যথা সময়ে পরিশোধ না করায় ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা জরিমানাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে রানার অটোমোবাইলসকে।
গত মার্চ মাসে রানার অটোমোবাইলসের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট ফাঁকির এসব তথ্য উদঘাটন করে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এর ভিত্তিতে ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে মামলা করার কথা বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রানার অটোমোবাইলসের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) শনদ দত্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী আমরা বিক্রির তথ্য এবং সেই পরিমাণ রিটার্ন দাখিল করেছি। আমাদের হিসাবে যে পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করা দরকার, তা আমরা করেছি। এরপরও ভুলত্রুটি হতেই পারে।”
তিনি বলেন, “ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের কাছে মামলা করেছে, আমরা সেই মামলা ফেইস করব। সেখানে আমাদের দলিলপত্র উপস্থাপন করব। এরপর রায় যা হয়, আমরা মেনে নেব।”
ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, একজন ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ মার্চ সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে তেজগাঁওয়ে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের বিক্রির তথ্য চাওয়া হয়। এরপর কোম্পানির দেওয়া দলিল যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির আলামত পাওয়া যায়। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তখন কিছু বাণিজ্যিক এবং ভ্যাট সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করেন।
সেসব দলিল পর্যালোচনা করে ‘ব্যাপক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয় জানিয়ে অধিদপ্তর বলছে, বিক্রির দলিলে দেখা যায়, ওই পাঁচ বছরে রানার মোট ১ হাজার ৮৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। কিন্তু তারা রিটার্নে ১ হাজার ৭৬৪ লাখ ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার বিক্রির তথ্য দিয়েছে।
“অভিযানে পাওয়া তথ্য এবং রিটার্নে দেওয়া তথ্যের মধ্যে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকার পার্থক্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ওই পাঁচ বছরে এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে।”
অধিদপ্তর বলছে, ওই বিক্রির তথ্য গোপন করে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ফাঁকি দেওয়া ওই ভ্যাটের জন্য ২ শতাংশ হারে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার সুদ প্রযোজ্য। অর্থাৎ, সব মিলে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের কাছে ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ভ্যাট পাওনা হয়েছে সরকারের।
পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত রানার অটোমোবাইলস বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার আমদানি করে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল সিকেডি অবস্থায় আমদানি করে তা সংযোজন করেও বিক্রি করে।