মাল্টার ‘অস্বাভাবিক’ দাম, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
আগামী রোজার জন্য এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বাজারে মাল্টার দাম ‘অস্বাভাবিক’ হারে বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, “বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।”
শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর ‘৮৭ টাকায় আনা মাল্টা বাজারে কেন ৫২০ টাকা কেজি’ শিরোনামে প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেখানে বলা হয়, “বাজারে এখন যেসব হলুদ মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বড় অংশ আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে। দেশ দুটি থেকে প্রতি কেজি মাল্টা সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টের কাছাকাছি দরে আমদানি হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা।
“কিন্তু সেই মাল্টা এখন চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি। অর্থাৎ যে ফলের আমদানি মূল্য ৮৭ টাকা, ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে তার দাম বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি।”
এ বিষয়ে মন্ত্রী সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করলে ব্যবসায়ীরা বলেন, মাল্টার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহের ঘাটতি।
তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।
উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান আমদানিকারকেরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।
এছাড়া আসন্ন রোজার চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে ‘চলতি সপ্তাহেই’ সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
