০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংকে সিএসআর খাতে ব্যয় কমেছে ২১%

বহুজাতিক উরি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও হাবিব ব্যাংকসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠান এ খাতে কোনো অর্থই খরচ করেনি।

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 11:08 PM

Updated : 05 Oct 2026, 11:57 PM

বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।

এর মধ্যে তিনটি বিদেশিসহ ১৯টি ব্যাংক এ খাতে কোনো অর্থই খরচ করেনি বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সিএসআর ব্যয় সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনটি সোমবার প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সিএসআর খাতে ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় করে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সে হিসাবে, ব্যয় কমেছে ৩১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

৬১ ব্যাংকের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে চলে যাওয়া এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও রয়েছে।

গত অগাস্টে পাঁচ ব্যাংকের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর দেশে এখ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে।

ব্যাংকগুলো বছর শেষে অর্জিত কর পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা আছে। আগের বছরের মুনাফাকে ভিত্তি ধরে পরবর্তী সময়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করে থাকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এক্ষেত্রে মুনাফার বাইরে থেকেও এ খাতে ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে। সিএসআর খাতে ব্যয় করা অর্থের মধ্যে কোন খাতে কতটুকু ব্যয় হবে, তার একটি সীমা ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হতে হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। এরপর ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে, অন্যান্য খাতে (ক্রীড়া, সংস্কৃতি, দুর্যোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, আয় উৎসারি) অবশিষ্ট ২০ শতাংশ ব্যয় করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছরে বলেছে, বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে সিএসআর খাতের অর্থ।

ব্যাংক লোকসানে থাকলে সিএসআর খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের মুনাফা কমে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধের সিএসআর ব্যয়ে।

দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১৯ ব্যাংক কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি সিএসআর খাতে। এ তালিকায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংক হলো, জনতা, অগ্রণী, বেসিক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।

বেসরকারি এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এসআইবিএল ও ইউনিয়ন ব্যাংকও আছে তালিকায়।

এছাড়া বহুজাতিক তিন ব্যাংক হচ্ছে উরি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও হাবিব ব্যাংক।