প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে আলোচনা: ‘৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা’
বৈঠকে দুপক্ষের প্রতিনিধিরা একটি সহযোগিতা নথিতে সই করেন।
প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি— ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লের’ সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রযুক্তি অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনবিষয়ক সহযোগিতার সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে বুধবার রাতে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ মূলত স্টার্টআপ, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংযোগ তৈরির কাজ করে।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা এ কোম্পানির অবস্থান প্রযুক্তি খাতের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সোমবার প্লাগ অ্যান্ড প্লের সিলিকন ভ্যালির সদর দপ্তরে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
সেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা ও প্রযুক্তি কাঠামো গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও প্লাগ অ্যান্ড প্লের প্রতিনিধিরা সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সহযোগিতা নথিতে সই করেন।
এর আওতায় বাংলাদেশে এক বা একাধিক এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
বৈঠকের পর প্লাগ অ্যান্ড প্লে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন অংশীদারদের কাজে লাগিয়ে ৫০ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই আনার একটি সম্ভাব্য পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তি কর্মশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, হাইটেক পার্ক, শিল্প সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবের একটি প্রধান অংশ হলো, বাংলাদেশ টেক সেন্টার ও একটি এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশি স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিভাকে বৈশ্বিক কর্পোরেট ও বিনিয়োগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে।
প্রস্তাবিত কাজের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও এআই, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, ওষুধশিল্প, উন্নত উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং ও প্যাকেজিং।
প্রস্তাবে স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সম্পৃক্ততা, কর্মশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগ সংগ্রহের পথও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজএবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৫০ কোটি ডলারের বেশি অঙ্কটি একটি সম্ভাব্য এফডিআই সুযোগ, নিশ্চিত বিনিয়োগ নয়।
আরও পড়ুন
