এলপিজি ও পণ্যবাজারে অভিযান, আরও ৯৫ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৩৮ জেলায় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে।
এলপি গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী তৃতীয় দিনের মত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রাজধানীসহ ৩৮ জেলায় মঙ্গলবার পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অধিদপ্তরের ৫১টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভোক্তা-অধিকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে তদারকি করা হয়।
অধিদপ্তর বলছে, অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে কিনা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।
তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে সঠিক ও হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সতর্ক করা হয় মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করতে।
ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক ওজন ও পরিমাপ বুঝে নেওয়া এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়ের রসিদ সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে অভিযান শুরুর প্রথম দিনে রোববার ৩০ জেলায় ‘অনিয়মের দায়ে’১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার ৪২ জেলায় পরিচালিত অভিযানে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
