‘জলবায়ু অভিযোজনে ৭ বছরে দরকার ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ’

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে নূন্যতম এই বিনিয়োগ না হলে হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশের জিডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 03:41 PM
Updated : 22 Jan 2023, 03:41 PM

জলবায়ু অভিযোজন খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ন্যূনতম ১ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ না করলে বাংলাদেশ ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে, সেইসাথে জিডিপিতে ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে, যা ওই বিনিয়োগের প্রায় ১০ গুণ। 

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর ‘দ্য অ্যাডাপটেশন ইকোনমি (অভিযোজন অর্থনীতি)’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ফল বিশ্লেষণ করে এমনটাই জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

গবেষণা প্রতিবেদনটির জন্য বাংলাদেশ, ভারত, চীন এবং পাকিস্তানসহ মোট ১০টি দেশের বাজারে জলবায়ু অভিযোজন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে জরিপ করা হয়। 

জরিপে উঠে আসে, অন্তত ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ না করলে ওই ১০টি দেশের বাজার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং প্রায় ৩৭৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০০ কোটি ডলার জিডিপি ঘাটতি দেখা দেবে। 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর প্রতিবেদনে ধরে নেওয়া হয়েছে, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা হচ্ছে। তবে এটি বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে ন্যূনতম বিনিয়োগ দ্বিগুণ বেড়ে ৬২ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ২০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে এবং বিনিয়োগ না করা হলে সম্ভব্য ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। 

জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পগুলোর মধ্যে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোয় উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, খরা-প্রতিরোধী ফসলের বিকাশ, এবং ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। 

ব্যাংকের এই গবেষণা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য সময়োপযোগী বিনিয়োগ করা হলে তা শত কোটিন ডলার ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষার পাশাপাশি, আগামী দশকে দেশের জিডিপিতে যে খারাপ প্রভাবের আশঙ্কা আছে, তা প্রতিরোধ করতে পারবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় নূন্যতম ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ডলার বিনিয়োগ এই গবেষণার আওতাভুক্ত ১০টি বাজারের মোট বার্ষিক জিডিপির শূন্য দশমিক এক শতাংশের সামান্য বেশি। 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার মারিসা ড্রিউ বলেন “এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং যতটা সম্ভব দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রভাবসমূহের বাস্তবতা মেনে ও মানিয়ে নিতে হবে। 

“দেশ ও জাতিকে কৃষি, শিল্প এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আরও উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। উদীয়মান এবং দ্রুত-উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও বৈরী আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব ও ঝুঁকি মোকাবেলা প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি বলে আমি মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি স্বীকার করতে হবে যে, অভিযোজন সব ক্ষেত্রে জরুরি এবং আমাদের অভিযোজন অর্থনীতি গবেষণা থেকে এটি স্পষ্ট যে, নিষ্ক্রিয়তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, খাত অভিযোজনে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স (ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং) বিটপী দাস চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের মতো একটি দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই দশকে আমরা অভিযোজনে বিনিয়োগে যদি ব্যর্থ হই, তবে তা বিভিন্ন সুযোগ হারানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে। আমাদের কাজ শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়, আর এই প্রতিবেদনটি সেটিই প্রমাণ করে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক