২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিনিয়োগ ফেরত পাবেন পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা

ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড ব্যবহার করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 05:56 PM

Updated : 22 Sep 2026, 06:27 PM

পুঁজিবাজারে পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) ব্যবহার করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে বলে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম।

যে পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেগুলো হল- মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও সালতা সিকিউরিটিজ।

এসব ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানই বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরিয়ে নিয়েছে। তাদের সরিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, আইপিএফ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ বা ১৭ হাজার ৩৩২ জন পুরো বিনিয়োগ ফেরতে পেতে যাচ্ছেন।

রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘পুরো অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ করতে সর্বোচ্চ দুই মাস সময় লাগতে পারে। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যর্থতায় বর্তমানে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।’’

এর আগে আইপিএফ তহবিল থেকে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “যাদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ আছে, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পর ৫ লাখ টাকার বেশি থাকা অবশিষ্ট ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর অর্থ পরিশোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি, পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও এসব বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।’’

অর্থ আদায়ে পাঁচ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।

পুঁজিবাজারে নতুন প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির খরার সময়ে ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক মিলিয়ে ১০টি ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ চালু করার কাজ চলছে। এ জন্য নাসডাক (যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান এবং বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক স্টক এক্সচেঞ্জ)-এর মাধ্যমে ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।”