১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংকের উপশাখায় আমানত বেড়েছে ৪৫০০ কোটি টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, আমানত বাড়লেও এসব উপশাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ১৭০০ কোটি টাকার মতো কমেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 10:32 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের উপশাখায় আমানতের পরিমাণ তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আমানত বাড়লেও এসব উপশাখা থেকে বিতরণ হওয়া ঋণের পরিমাণ ১৭০০ কোটি টাকার মতো কমে গেছে। 

উপশাখার তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত জুন শেষে সারা দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের উপসংখ্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩। 

এসব উপশাখায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৫০টির উপশাখা ব্যাংকিং রয়েছে। সবচেয়ে বেশি উপশাখা রয়েছে রাজধানীতে; ১০০৭টি। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি, এক হাজার ২২৪টি উপশাখা রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের।  তাদের শাখা রয়েছে ১৮৯টি।

সেই হিসাবে, শাখার চেয়ে তাদের উপশাখার সংখ্যা ৬ গুণ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে মোট উপশাখার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৭১টি। ছয় মাসে বেড়েছে ৭১টির। এর মধ্যে সবশেষ তিন মাসে বেড়েছে ৪১টি।

মোট উপশাখার মধ্যে ২ হাজার ৪৯১টির অবস্থান গ্রামীণ এলাকায়। 

সবশেষ প্রান্তিকে (মার্চ-জুন) ব্যাংকিং খাতের তুলনায় উপ-শাখাগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত আমানতের প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল।

আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত জুন শেষে উপশাখায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায়। 

গত মার্চ মাস ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এই সময়ে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

গত জুনে উপশাখার মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকায়। তিন মাসে আগে যা ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপশাখা রয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়; ৪৭০টি। এরপর কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি ও গাজীপুরে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৬৮টি উপশাখা রয়েছে।  

এর বাইরে সিলেটে ১১০টি, নোয়াখালীতে ১০৬টি ও বগুড়ায় ১০৩টি উপশাখা রয়েছে। ৫০ থেকে ১০০ উপশাখা থাকা জেলার সংখ্যা ২৫।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮৮টি উপশাখা রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩৫০টি, পূবালী ব্যাংকের ২৮১টি ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ২৭১টি উপশাখা রয়েছে।

মূলত আমানত সংগ্রহের উদ্দেশ্য নিয়ে উপশাখা পরিচালনা করা হয় মন্তব্য করেছেন বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘আন ব্যাংকড (ব্যাংকের আওতায় না আসা) জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে উপশাখা কাজ করে। সেখান থেকে এখনো মূলত আমানত সংগ্রই মূল উদ্দেশ্য।’’

একটি ব্যাংকের শাখা খুলতে ব্যাংকের সব ধরনের সেবা চালু রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা মেনে টাকা সংরক্ষণের জন্য ন্যূনতম আকারের ভল্ট ও শাখা পরিচালনার জনবল নিয়োগ করতে হয়।

অন্যদিকে উপশাখা পরিচালনা করা যায় মাত্র ১ হাজার বর্গফুটের জায়গা হলেই। সাধারণত একটি উপশাখায় ৪-৬ জন জনবল দিয়ে পরিচালনা করছে ব্যাংকগুলো।

সব সেবা চালুর কথা বলা হলেও আমানত সংগ্রহ, এসএমই ঋণ ও ব্যাংকের বিভিন্ন সেবার বিষয়ে আমানতকারীদের পরিচিতির কাজটি করে থাকে ব্যাংকগুলো। পরিচালন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন উপশাখার সংখ্যা বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো।

অলাভজনক স্থানে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে কম খরচে উপশাখা পরিচালনা করতে ২০১৮ সালে ব্যাংকিং বুথ পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৯ সালে এই ব্যাংকিং বুথগুলোকে উপশাখা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।