১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক সচল এ সপ্তাহেই: পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান

টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 07:59 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

দুর্ঘটনায় বিকল মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের প্রথম ইউনিট চলতি সপ্তাহে সচল হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান।

টার্মিনালটির দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামত করে সচল করতে ১০ অগাস্ট পর্যন্ত অপেক্ষার কথা বলছেন তিনি।

মেরামতের অগ্রগতি ভালো মন্তব্য করে সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আব্দুল মান্নান বলেন, “দ্রুত টার্মিনালটি সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”

সমুদ্রপথে আনা এলএনজি সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনালে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ২১ জুলাই একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাবে পড়ে দেশজুড়ে।

বিকল হয়ে যাওয়ার আগে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেছিলেন, “আগুন লাগার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বিশেষ করে ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালটির কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।”

প্রতিমন্ত্রী অমিত এর আগে বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে সাধারণ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

দুটি এফএসআরইউর একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার কথা বলেছিলেন তিনি।

এর প্রভাব পড়ছে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানাগুলোতেও। এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর পোশাক কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ৪০ শতাংশের নিচে নামার কথা বলেন উদ্যোক্তারা। এতে উৎপাদন সক্ষমতাও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।