Published : 06 Aug 2026, 08:21 PM
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তাই ব্যবসায়ীদের ‘বিকল্প সুবিধা’ বা ‘ছাড়’ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিনিয়োগ সম্পর্কিত বাজেটের ফলাফল’ শীর্ষক বিফ্রিংয়ে কথা বলছিলেন তিনি।
আশিক চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি একেবারে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রত্যেকেই খুব বিবিড়ভাবে ফলো করছেন। তবে জ্বালানি সমস্যার কোনো রাতারাতি সমাধান আসলে নাই। বাস্তবতা হচ্ছে, সমস্যাটা চিহ্নিত। আমাদের দীর্ঘ মেয়াদি সমাধানগুলোকে কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকেই নজর দিতে হবে।
“বেসরকারি খাত থেকে আমাদের কাছে অনুরোধ ছিল, যেহেতু উনাদের ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতেই হচ্ছে। কিন্তু ওনারা (ব্যবসায়ী) গ্যাস পাচ্ছেন না। সরকার থেকে যে সার্ভিস চার্জগুলো ওনাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়, সেগুলোতে কি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যায় কিনা, সেটা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিনিয়োগ-সম্পর্কিত বাজেটের ফলাফল নিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, “বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাদের সামনে রেখে বাজেটটা তৈরি করা হয়েছে। আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাপ্লাই চেইনকে ফোকাসে রাখা হয়েছে।
“বন্দর আধুনিকীকরণের জন্য আমরা বিদেশি অপারেটর নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। তাই স্পেসিফিক লজিস্টিক্স এন্ড সাপ্লাই চেইন এলাকাটাকে খুব শক্তভাবে মনে করা হচ্ছে।”
অনুষ্টানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। প্রবন্ধে বলা হয়, বিডা বাজেটের আগে ১৭টি বাজেট সংক্রান্ত এবং ১৯টি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে যথাক্রমে ১৪টি ও ১২টি বাস্তবায়িত হয়েছে।
এতে বলা হয়, “বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া ইতিবাচক। এছাড়া ওষুধ শিল্পের ৫১টি কাঁচামালে শূন্য কাস্টমস শুল্ক, বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি কর ৯৪ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশে নামিয়ে আনা, গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে কমানো, তুলার অগ্রীম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ওষুধ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ প্রণোদনা চালু করার বিষয়টিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি, টেলিকম ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ) একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা কখনোই বলব না যে লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেছে বরং এই যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে।
“আমরা ভারত, হংকং ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেছি। তারা কীভাবে নীতিমালা পরিবর্তন করেছে, কোন খাতে গুরুত্ব দিয়েছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস কীভাবে পরিচালনা করে, স্বর্ণ, হীরা ও গয়না আমদানির পর বিমানবন্দরের পরিবর্তে কীভাবে ওয়্যারহাউসেই কাস্টমস কার্যক্রম সম্পন্ন করে এসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবও উপস্থিত ছিলেন।