১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এক মাসে ৬০০ বস্ত্র কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, দাবি বিটিএমএ সভাপতির

তবে কয়টি কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা বলতে পারেননি তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 12:47 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

বস্ত্র খাতের ৬০০ কারখানায় গত এক মাসে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন এ খাতের কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

তার ভাষ্য, আর্থিক সংকটসহ আগে থেকে কিছু সমস্যার কারণে অনেক কারখানা টেনেটুনে চলছিল। সেই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট যোগ হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।

তবে কয়টি কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা বলতে পারেননি বিটিএমএ সভাপতি।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে মঙ্গলবার পরিচালক পর্ষদের জরুরি সভা করে বিটিএমএ। 

সংগঠনের সভাপতি বলছেন, সারাদেশে বন্ধ হওয়া কারখানার তথ্য সংগ্রহ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তালিকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি বস্ত্র খাতে সহায়তা চেয়ে একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার দাবি জানাবেন তারা, বলছেন শওকত আজিজ।

চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে কারখানা বন্ধের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

চলমান গ্যাস সংকটের কোনো প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ অঞ্চলে থাকা বস্ত্র শিল্পের। দেশের বস্ত্র খাতের মিলগুলো মূলত নারায়াণগঞ্জভিত্তিক। সবচেয়ে বেশি কারখানা এই অঞ্চলে।

এর বাইরে সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ অন্য জায়গায় কিছু কারখানা রয়েছে। এসব অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন (ক্যাপটিভ পাওয়ার) ব্যবস্থাও অচল হয়ে গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘‘অনেকগুলো সমস্যা নিয়েই কারখানা চলে। এর মধ্যে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় আর চালাতে পারছে না। গত এক মাসে উৎপাদন বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা ৬০০ হবে। কতগুলো শুধু গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা বলা মুশকিল।”

তিনি বলেন, “আগে তিনশ’র মতো কারখানা বন্ধ ছিল। এখন তা ৯০০ হয়েছে। নতুন করে ৬০০ এর মত উৎপাদন বন্ধ করল। গ্যাস বিদ্যুত পাওয়া গেলে এর মধ্যে হয়ত কিছু চালু হবে।”

বস্ত্র খাতের জন্য বিটিএমএ এর তরফে চলতি সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে একটি পরিকল্পনা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকার আমাদের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড দিক। গ্যাস এভাইল্যাবল (গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক) হওয়ার পর একটি রিফাইন্যান্স স্কিম দিক। তাহলে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের চাপ থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্তি পাবে।”

তীব্র এই গ্যাস সংকট কাটিয়ে না উঠা পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যবসায়ীদের অব্যাহতি দেওয়া এবং কিস্তি শোধ না দিলেও তাদের খেলাপী হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি তাদের।

গ্যাস সংকট সমাধানের পরও আর্থিক চাহিদা মেটাতে নতুন করে ব্যাংক অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিটিএমএ সভাপতি।

নিজের মালিকানাধীন পাঁচ স্পিনিং কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে তুলে ধরে শওকত আজিজ বলেন, “স্পিনিংয়ের পাঁচটা কারখানার উৎপাদন বন্ধ করেছি। এর মূলত কারণ হল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্টেবল থাকছে না। এতে আমাদের লস হয়। ব্যাংকের সাপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। তারা টাকা দিচ্ছে না, তাহলে এলসি কীভাবে করব।”

এর বাইরে তার মালিকানাধীন একটি পার্টিকেল বোর্ড মিলস বন্ধ হয়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, “এখন সরকারের উচিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া। সেটি করলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।”

নিটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সব কারখানাই যে শুধু গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তা না। অনেক কারখানার তো নানাবিধ সমস্যা থাকতে পারে, কারো অর্ডার নাই। ম্যানেজমেন্টে ইস্যু থাকতে পারে, তারল্য সংকট থাকতে পারে ইত্যাদি। 

“তার মধ্যে এখন অন্যতম হল-গ্যাস সংকট। এটা দেখা যেতে পারে শুধু গ্যাস সংকটের কারণে কতগুলো বন্ধ হল।”

তৈরি পোশাক খাতের জন্য অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে যে সুতা সরবরাহ করা হয়, চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে তার পুরোটাই এক সময়ে আমদানি করতে হবে, বলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ।

গেল মাসে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হলে গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। পরে তা আংশিক চালু করা হয়। 

এর পর মহেশখালীতে সামিটের অপর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালেও ত্রুটি দেখা দেয়। 

এক্সিলারেটের টার্মিনালটি পুরো সক্ষমতায় চালু করতে কয়েকদিন বন্ধ করে মেরামত করতে হবে বলে সরকারের তরফে বলা হয়েছে।

গ্যাসের তীব্র সমস্যার মধ্যেই গত ১৬ অগাস্ট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, অল্প সময়ে তার সমাধান সম্ভব হবে না।

তিনি বলেছেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরে সমাধান হবে না। এরজন্য ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।”