২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই পক্ষের ‘দ্বন্দ্বে’ রিহ্যাবের এজিএম স্থগিত

মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার সংগঠনের পরিচালক পর্ষদের দুই পক্ষের অভিযোগ নিয়ে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে।

দুই পক্ষের ‘দ্বন্দ্বে’ রিহ্যাবের এজিএম স্থগিত
ছবি: রিহ্যাবের ফেইসবুক পেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 09:16 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

পরিচালক পর্ষদের দুই পক্ষের ‘দ্বন্দ্বের’ মধ্যে এক মাসের জন্য আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রিহ্যাবের এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে সংগঠনের পরিচালক পর্ষদের দুই পক্ষের অভিযোগ নিয়ে শুনানি শেষে এজিএম স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।

শুনানিতে সংগঠনের সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সহ সভাপতি (অর্থ)-সহ এক অংশের বিরুদ্ধে পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে দুই কোটি টাকার চেক সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার অভিযোগ আনেন রিহ্যাবের সহসভাপতি (১) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে পর্ষদের ১০ পরিচালক। 

এছাড়া গত তিন মাসে খরচ করা ৫০ লাখ টাকার ভাউচার পর্ষদে অনুমোদন করা হয়নিসহ ১২টি বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা দেন তারা।

ওইদিন রাতেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এজিএম স্থগিত করে সংগঠনটিকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। 

এ বিষয়ে আক্তার হোসেন বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর শুনানি ও তথ্য বিশ্লেষণ করতে আরো সময় লাগবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এজিএম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিস্পত্তি ও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করা যাবে।”

মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর শুক্রবার সদস্যদের চিঠি দিয়ে এজিএম স্থগিত করার বিষয়টি অবহিত করেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। সেই চিঠিতে এজিএমের তারিখ ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে বলা হয়। 

এদিকে পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে দুই কোটি টাকার চেক সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “রিহ্যাবের তহবিলে ২ কোটি টাকা ছিল না। এর মধ্যে এক কোটি টাকা সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয় চেকের মাধ্যমে। গত ২১ জুলাই স্বল্প সময়ের নোটিসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব নেতারা সভা করার ডাক পান। সেখানে আমিও উপস্থিত থাকতে পারিনি।

“বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা হবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানানো হয় সকাল ১০টার পর। এই সময়ের মধ্যে রিহ্যাব নেতাদের অনেকেই গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স পাননি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতে। তাই হয়ত কয়েকজন অভিমান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভা শেষে ত্রাণ তহবিলে মোট ১৪ কোটি টাকার চেক দেওয়া হয় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকা কয়েকটি আবাসন কোম্পানি দেয় ও রিহ্যাব তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়।’’

পুরো অর্থ চেকের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “সময় স্বল্প হওয়ার কারণে পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। সব অর্থের হিসাব আছে, ডকুমেন্ট আছে। বিষয়টি তো ওপেন, সবারই জানা। আমরা পোস্ট ফ্যাক্টো হিসেবে পরের পরিচালক পর্ষদে অনুমোদন করিয়ে নেব।”

আবাসন খাতের এই সংগঠনের উদ্যোগে আগামী ১২ অগাস্ট থেকে চার দিনের মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকার শাহবাগের কাছে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।

মেলায় আবাসন প্রতিষ্ঠান, নির্মাণসামগ্রী খাতের প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু পরিচালক পর্ষদের ‘দ্বন্দ্বে’ মেলা হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সহসভাপতি (১) আক্তার হোসেনের ভাষ্য, “মেলা হবে কি হবে না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”

অন্যদিকে আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, “প্রস্তুতি চলছে, মেলা যথা সময়ে হবে। সবাই তো আমরাই, সমস্যা হবে না।”