Published : 05 Aug 2026, 11:40 PM
প্রথমবারের মত পাটের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলছে সরকার।
কৃষক যাতে পাটের ন্যায্যমূল্য পায়—সেটি নিশ্চিত করতেই প্রথমবারের মত এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
চলতি মৌসুম থেকেই সোনালি আঁশ পাটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার আমরা ‘পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছি।
“ওই বৈঠকে সবার মতামতের ভিত্তিতে পাটের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, তার আলোকে খুব শিগগিরই অধিদপ্তর থেকে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেবে।
এবার দাম কেমন হবে—এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল বাসির বলেন, গত বছর কৃষক দাম ভালো পেয়েছিল। সে কারণে এবার একটু বেশি আবাদ করেছে। মঙ্গলবারের সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। সর্বনিম্ন দাম মণপ্রতি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। আর সর্বোচ্চ দাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত এসেছে।
“আমরা এই দর থেকে একটি দর ঠিক করে মন্ত্রালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করবে।”
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় চলতি মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় ফরিদপুর জেলায়। দেশের মোট উৎপাদিত পাটের প্রায় ৩০ শতাংশই এই জেলা থেকে আসে। সে কারণে ফরিদপুরকে ‘পাটের রাজধানীখ্যাত’ জেলা বলা হয়ে থাকে।
ফরিদপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ নতুন পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা বলেছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া অন্য পাট উৎপাদনকারী জেলা রাজবাড়ী, পাবনা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, যশোর, মেহেরপুর গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহেও নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দাম প্রায় একই ধরনের।
পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূরুল বাসির বলেন, “এখনও পাটের পুরো মৌসুম শুরু হয়নি। মাত্র কিছু উঠতে শুরু করেছে। অল্প কিছু বেচাকেনা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে ফরিদপুরে নতুন ওঠা পাট ২ হজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গত মৌসুমের পুরনো পাট বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকার বেশি দরে।
গত মৌসুমের শুরুতেও নতুন পাটের দাম এ দরে বিক্রি হয়েছিল, বলেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।