Published : 16 Sep 2025, 09:21 PM
বেসরকারি খাতের শরীয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত (মার্জ) করার পদক্ষেপের প্রথম ধাপে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্বাহী পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে প্রশাসক বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্জ হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো হল- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এসব ব্যাংককে একীভূত করে শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নতুন শরীয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংক গঠন করা হবে। ওই ব্যাংকে এসব ব্যাংকের সম্পদ ও দায় হস্তান্তর করা হবে।
এসব ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ও এসআইবিএল মার্জ হতে আপত্তি জানিয়েছে। দুটো ব্যাংকের পরিচালকরা মনে করছেন, সময় দিলে তারা ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবেন।
ব্যাংকের পর্ষদ ‘নিষ্ক্রিয় হবে’
কবে নাগাদ ও প্রশাসক হিসেবে ব্যাংকগুলোতে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে- সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিবিভাগ এ বিষয়ে নাম প্রস্তাবের পর গভর্নর অনুমোদন দেবেন। এরপর প্রতিটি ব্যাংকে প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে সভার বরাতে তুলে ধরেন একজন কর্মকর্তা।
প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাংকগুলোর পরিচালক পর্ষদের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ‘‘একটা টিমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে তারা। প্রশাসক সব কিছুর সঙ্গে সমন্বয় করবেন।’’
সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার পর তাকে সহযোগিতা করতে প্রতি ব্যাংকে একটি দল গঠন করা হবে। সেই দল ব্যাংক পরিচালনার বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবে। ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাদ দেওয়া না হলেও তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। নির্বাহী ক্ষমতা তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রশাসকের অধীনে দেওয়া হবে।
পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসরাণ বা নিয়োগ বাতিল করতে পারবে।
ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য গঠিত টাক্সফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসকরা ব্যাংকগুলো পরিচালনা করবেন। একীভূত করার প্রক্রিয়ায় টাক্সফোর্সের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করবেন তারা।
পুরো কর্মপ্রক্রিয়াকে একটি ‘টিম ওয়ার্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।