১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে চাপ রয়েছে? বাণিজ্যমন্ত্রী দেখালেন ‘ভালো অফার’

“যখন কোনো পণ্য কেনার ব্যাপার আসে, তখন জাস্ট অন দ্য ফেইস অব ইট যদি আপনি প্রাইসিং করেন, তাহলে সেই প্রাইসিংটা প্রপার হবে না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 05:42 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) কার্যকর হওয়ার আগেই সেখান থেকে এলএনজি, গম কেনার মতো সিদ্ধান্ত নিতে কোনো চাপ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ভালো অফার’ বিবেচনায় সেসব কেনায় সরকার সায় দিয়েছে।

এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মূল্য বিবেচনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা ও অপচয়ের মতন বিষয় আমলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

রোববার ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী মুক্তাদির সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

সেখানে এক সাংবাদিক বলেন, “ইদানীং ইউএস থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু ইমপোর্ট করছে এবং ইউএস’র সাথে একটা ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করেছি, যেটা এনফোর্সমেন্টে যায় নাই এবং সেটা পার্লামেন্টেও তোলা হয় নাই। কিন্তু তার পরেও আমরা ইউএস থেকে অনেক কিছু ইমপোর্ট করছি।…সেটা কি কোনো ফোর্স করা হচ্ছে নাকি আমরা উইলিংলি আনছি?”

জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “রিগার্ডলেস অব এআরটি (দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি); এআরটি চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের এলএনজি প্রয়োজন। এলএনজির জন্য তো আমরা বিশ্বের সব জায়গায় সোর্স করি। আমেরিকান একটা কোম্পানি অফার করেছে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১১৭টা কার্গো দেবে।

“এবং যেই দিন আমরা ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এটি অনুমোদন দিয়েছি, সেই দিনের ইনডেক্সের বেসিসে এই পুরা ১১৭ কনটেইনারের এভারেজ প্রাইস দাঁড়াত ৯ ডলার করে। তো আমাদের কাছে সেটা একটা ভালো অফার মনে হয়েছে, আমরা সেটা অনুমোদন করেছি।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “গম কিনি আমরা আমেরিকা থেকে। সেই গমের অন্যান্য সোর্স থেকে আমরা যে গম আনি, তার তুলনায় সেই গমের ওয়েস্টেজ পার্সেন্টেজ অনেক কম। তো সেটাকে যদি আপনি ভ্যালুতে ট্রান্সলেট করেন, তাহলে সেটা লাভজনক।

“এইভাবে যখন কোনো পণ্য কেনার ব্যাপার আসে, তখন জাস্ট অন দ্য ফেইস অব ইট যদি আপনি প্রাইসিং করেন, তাহলে সেই প্রাইসিংটা প্রপার হবে না। এটার অপচয়, এটার লং টার্ম বেনিফিট—এগুলি চিন্তা করে প্রাইসিং করতে হয়। 

“তো আমরা যে সমস্ত ক্রয় করি—আমেরিকা বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য যে জায়গা থেকেই, চীন বা ভারত যে জায়গা থেকেই পারচেজটা করি—অন ইটস ওন মেরিট আমরা চেষ্টা করি, আমাদের বেস্ট জাজমেন্ট অ্যাপ্লাই করতে।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই করে। চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছয়টি শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে খবর এসেছে।

ট্রাম্পের বাড়তি সম্পূরক শুল্ক এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বিএনপি সরকার দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কেনায় সায় দিয়েছে। এছাড়া ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।

বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার কথা সম্প্রতি এক্স পোস্টে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সেখানে তিনি এক নতুন চুক্তির কথা বলেন।

গোর বলেন, “চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি।”

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদও জানান।

ট্রাম্প বলেন, “বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।”

একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে এবং আরও উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।