Published : 03 Oct 2025, 04:13 PM
বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের ফেইসবুক পেইজ হ্যাকারের কবলে পড়েছে।
ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “শুক্রবার ভোরে জানতে পেরেছি, পেইজ হ্যাকড হয়ে গেছে। আইটি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন সমাধানের জন্য।”
এদিন ভোরে ইসলামী ব্যাংকের ভেরিফায়েড পেইজে দেখা যায়, প্রোফাইল ও কভার ফটো সরিয়ে নিজেদের লোগো বসিয়েছে হ্যাকার দল। তারা নিজেদের পরিচয় দেয় ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ নামে।
এরপর হ্যাকার দলের নামে খোলা একটি ফেইসবুক পেইজের পোস্টে বলা হয়, “ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই তাদের ফেইসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণ চালানো হবে।”

এই পোস্টটি আবার শেয়ার করা হয় হ্যাকার দলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের পেইজ থেকে। অবশ্য দুপুর থেকে ব্যাংকের পেইজ আর দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপ মুক্ত হয় ইসলামী ব্যাংক। গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থাকাকালে কোনো ধরনের পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে হাজার দশেক ব্যক্তি নিয়োগ পান।
তাতে জনবল বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজারে, যা ২০১৬ সালে ছিল সাড়ে ১৩ হাজার। মৌখিক নির্দেশে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৮৫ জনকে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়।
কিন্তু মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৪১৪ জন। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াদের দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক।
জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু তারা যেকোনোভাবেই ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন, আবার তারা পরীক্ষাও দেননি। তাই যোগ্যদের বেছে নেওয়ার জন্য অনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া সবাইকে পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আসতে হবে।

“ব্যাংক মানবিক দিক দিয়ে বিষয়টি দেখছে, যারা টিকবে তাদের নেওয়া হবে। বাকিদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আবারও সুযোগ দেওয়া হবে, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
তিনি জানান, দায়িত্ব অবমুক্ত থাকাদের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবে ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
ফেইসবুক পেইজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হ্যাকার গোষ্ঠী একটি বার্তা দিয়ে কিছু সময় পর তা সরিয়ে নেয়।
সেখানে লেখা হয়েছিল, “বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের তৎপর কর্তৃপক্ষের অনৈতিক ও অন্যায় আচরণে এমএস ৪৭০এক্স তাদের পেইজ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা হবে। অবিলম্বে অন্যায় চাকুরিচ্যুতির উপর পুনর্বিবেচনা ঘোষণা করা হোক।”