২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদানে একধাপ এগোল বাংলাদেশ

বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ‘ত্বরান্বিতে’ একটি বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদানে একধাপ এগোল বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি সাবাহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 07:53 PM

Updated : 24 Sep 2026, 07:53 PM

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাঁতারে ওঠার পর বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতির বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানের পথে আরও একধাপ এগোল বাংলাদেশ।

ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫ম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ‘ত্বরান্বিতে’ একটি বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) দেওয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি এ তালিকায় রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।

আরসিইপি বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক জোট। চীনের নেতৃত্বাধীন বর্তমানে এ জোটের সদস্য সংখ্যা ১৫। বাকি সদস্য দেশগুলো হল ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এই জোট বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

কোভিডকালীন সময় ২০২০ সালে ভিয়েতনামে স্বাক্ষরিত হয় এ বাণিজ্য চুক্তি।

আরসিইপি জোটের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করে ২০২১ সাল থেকে। তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ; তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আসার পর এটি গতি পায়।

তারেক রহমান প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়ে তার প্রথম সফরে মালয়েশিয়ায় গেলে এটি ফের আলোচনায় আসে।

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে।

“একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

এ বক্তব্যের ঠিক তিনমাস পর আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পথ কিছুটা হলেও এগোল।

যৌথ বিবৃতির বরাত দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, “আরসিইপি চুক্তি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।”

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, “বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত অর্থনৈতিক পরাশক্তিদের নিয়ে গঠিত এই মেগা বাণিজ্যিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

“বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকে আরসিইপি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করা হয়।

এ সময় সদস্যপদ চেয়ে আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য শেন রেটি এ যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন।