Published : 30 Jul 2026, 12:50 AM
গ্যাস সংকটে উৎপাদন চালু রাখতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে চাইছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।
তৈরি পোশাক খাতের নিট রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর দাবি, পোশাক কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে তিতাসের দেওয়া নির্দেশ প্রত্যাহার করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী।
এ খাতের আরেক সংগঠন বিজিএমইএ সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠনকে চিঠি দিয়ে পোশাক কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহে সহযোগিতা চেয়েছে।
অপরদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের সংগঠন বলছে, খোলা সিলিন্ডার কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে গ্যাস না দিতে তিতাসের নির্দেশ বহাল রয়েছে। এ অবস্থায় করণীয় জানতে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ এ সিএনজি শ্রেণির সংযোগ থেকে অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিকেএমইএ ২৮ জুলাই সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেছে, তিতাসের জারি করা সার্কুলারের বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি জ্বালানি সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই আলোচনায় গ্যাস সংকটে রপ্তানিকারকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পোশাক রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়।
এতে দাবি করা হয়, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে মন্ত্রী তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উক্ত সার্কুলার জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে এবং বর্তমান সংকট কালে তৈরি পোশাক শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন হতে গ্যাস সংগ্রহ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো নিরাপত্তা বিধি ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
কারখানাগুলো তাদের এলএমজি বা মোবাইল গ্যাস ব্যবস্থা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করতে পারবে বলেও চিঠিতে বলেছে সংগঠনটি। চিঠিতে ধারণা দেওয়া হয়, গ্যাসের সাময়িক সমস্যাটি ৮ আগস্ট পর্যন্ত থাকতে পারে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পোশাক কারখানায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত লিখিত কোনো আদেশ হয়নি।
সদস্যদের কাছে বিকেএমইএর চিঠিটি জ্বালানি সচিবের সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের আলোচনার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
ফজলে শামীম বলেন, তিতাস শিল্পকারখানার কাছ থেকে জামানত নিয়ে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে এবং কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব।
গ্যাস সংকটের সময় শিল্পকারখানাকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস নেওয়ার সাময়িক ছাড় দেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ২৮ জুলাই বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে চিঠি দিয়ে পোশাক কারখানায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে সহযোগিতা চান।
যেসব কারখানা সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস নিতে চায়, তাদের সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
তবে সিএনজি স্টেশনগুলো সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সংগঠনটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠনের দারস্থ হয়েছে।
এদিকে গত ২৭ জুলাই আমিনবাজারের সালিপুরের এইচ কে ফিলিং স্টেশনকে একটি চিঠি দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
তিতাসের মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-৬ থেকে পাঠানো চিঠিতে যানবাহন ছাড়া অননুমোদিত খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, এভাবে গ্যাস সরবরাহ বা বিক্রি বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ এবং গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি, ২০২৬-এর ‘পরিপন্থি ও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’।
এর আগেও একই বিষয়ে ওই ফিলিং স্টেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তিতাস।
এমন প্রেক্ষাপটে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ছাড়পত্র নিতে বিজিএমইএকে অনুরোধ করেছে।
একই সঙ্গে সংগঠনটি আগের নির্দেশনা বহাল থাকায় পেট্রোবাংলার নির্দেশনা চেয়েছে বলে তুলে ধরেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নূর।
আইনে কী আছে
বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১১ ধারায় অনুমোদিত সংযোগের গ্যাস অননুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইনের ১১(২)(খ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সিএনজি শ্রেণিভুক্ত গ্রাহক তার অনুমোদিত সংযোগ থেকে অননুমোদিত বা অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে, গৃহস্থালি কাজে, শিল্প প্রতিষ্ঠানে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিদ্যুতে, লোডশেডিং উঠেছে ৯৬২ মেগাওয়াটে
এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা: গ্যাস সংকটে বিপাকে পোশাক কারখানা