Published : 13 Aug 2026, 06:27 PM
দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করার কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেছেন, “আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা দূর করার জন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা জাতীয় পর্যটন নীতিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করছি। পর্যটন স্পট উন্নয়নে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেব এবং তা বাস্তবায়ন করব। তবে পর্যটন খাতের অগ্রযাত্রায় বেসরকারি অংশীজনকেই এগিয়ে আসতে হবে।”
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ঢাকার পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাংলাদেশকে ‘ট্যুরিজম হাবে’ রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মিল্লাত বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ছিল না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাবে পর্যটন খাতে অনগ্রসরতার কথা জাতি জানতেও পারেনি। তবে বর্তমান সরকার কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।”
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলের সভা প্রতি ছয় মাস অন্তর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা অনুরোধ জানাব। আপনাদের জন্য পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা তৈরি করব আমরা।
“তাছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হবে। সকলের সহযোগিতায় দেশীয় জিডিপিতে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত অদূর ভবিষ্যতে পৌঁছাবে বলে আশা রাখি।”
আলোচনা সভায় বাংলাদেশে ব্যাক ওয়াটার-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমানে বাংলাদেশে এর অবস্থান, এর উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন কর্ম পরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, “পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টের কাজ শুরু করেছি। তাছাড়া এবছর এডিপিতে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, “ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের মধ্যে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরোটাই চলে আসে। আমাদের বিশেষ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য রেখে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম উন্নয়ন করতে হবে।
“পর্যটন স্পটগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আনা খুব জরুরি। স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পর্যটক নিরাপত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো আব্দুর রউফ।