১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিপি কর্মীদের ‘সুরক্ষা দেবে’ বিজিএমইএ

“পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এলপিপির নিজস্ব সব সরাসরি চুক্তিভিত্তিক দায় পূরণের প্রতিশ্রুতিতেও কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 06:33 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহকারীদের মামলার মুখে পড়া পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপির কর্মীদের সুরক্ষায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

একইসঙ্গে তারা পাওনা নিয়ে বিরোধে এলপিপির অবস্থানকেই সমর্থন দিয়ে বলেছে, বকেয়া পাওনার দাবি আইনিভাবে দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধেই তোলা উচিত।

মঙ্গলবার বিজিএমইএ ও এলপিপির এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “এই বিরোধের সঙ্গে জড়িত নয় এমন পোশাক প্রস্তুতকারক, কর্মী অথবা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে—এমন ঢালাও প্রচার থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উভয়পক্ষই মনে করে।

“একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ এবং শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মীদের অযাচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি কার্যক্রম থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও থাকবে।”

তবে এ বিবৃতি আইনগতভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকারকে সীমিত করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক কিনে থাকে এলপিপি। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হলে কোম্পানিটি রাশিয়ায় থাকা ব্যবসা সেখানকার এফইএস রিটেইলের কাছে বিক্রি করে দেয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় রাশিয়ার বাজারে এলপিপির ৫৫৭টি দোকান ছিল।

এই এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের ৪ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে। এ কোম্পানিকে বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয় এলপিপির ঢাকা অফিস। এ কারণে সরবরাহকারীরা পাওনার জন্য এলপিপির কাছে বারবার ধরনা দেয়। 

দীর্ঘ সময়েও কাজ না হওয়ায় গেল মাসে দুটি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান পোলিশ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। এরপর এলপিপি কর্মকর্তাদের বাসায় পুলিশ যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। তাতে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। 

তবে মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি বাংলাদেশে নিজেদের পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার বিষয়ে এলপিপি স্পষ্ট করেছে যে, স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি নিরাপত্তা এবং ব্যবসার স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 

“এই পর্যালোচনা কোনো পোশাক প্রস্তুতকারককে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এলপিপির নিজস্ব সব সরাসরি চুক্তিভিত্তিক দায় পূরণের প্রতিশ্রুতিতেও এর কোনো প্রভাব পড়বে না।” 

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে যে ইনভয়েস ও বকেয়া পাওনা নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটির জন্য এলপিপি আইনিভাবে দায়ী বা দেনাদার নয়। 

এলপিপি গত ৫ অগাস্ট এক বিবৃতিতে বাংলাদেশি কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে পাওনা নিয়ে ‘মিথ্যা’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলে। 

এতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে তা মূলত এফইএস নামের একটি আলাদা কোম্পানির কার্যাদেশ নিয়ে। এলপিপি ২০২২ সালে রাশিয়ার বাজার ছেড়ে দেওয়ার সময় ওই কোম্পানির কাছে নিজের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দিয়েছিল। এফইএস সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাধীন একটি কোম্পানি, তারা নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা বহন করে। যে সময়ের কার্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক, যখন এফইএস স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করছিল।

“তাই এই বিতর্কের সঙ্গে এলপিপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এলপিপি নেবে না। ...এফইএস তাদের আর্থিক দায় পরিশোধ না করায় এলপিপিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ কোম্পানি (সহযোগী কোম্পানি) ও সংশ্লিষ্ট পণ্য কেনার জন্য এলপিপিকে যে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল, এফইএস এখন পর্যন্ত তা পরিশোধ করেনি। এর ফলে এলপিপিকে মূল্য হ্রাসজনিত ক্ষতি হিসেবে মোট ১ দশমিক ১ বিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি হিসাব করতে হয়েছে। এতে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”

বিবৃতিতে এও বলা হয়, “আমাদের কর্মীদের  নিরাপত্তা এবং কোম্পানি, ক্রেতা ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা বাংলাদেশে এলপিপির কিছু পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্তের মাত্রা ও সময়কাল নির্ধারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য কোম্পানির ওপর যাতে কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকি না আসে।”

এলপিপি মঙ্গলবার দাবি করেছে, বাংলাদেশে তাদের সরাসরি সরবরাহকারী এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সব পাওনা চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত পরিশোধ করা হয়।

এলপিপির এই বক্তব্য তুলে ধরে বিজিএমইএও বলেছে, “যেকোনো পাওনা আদায়ের আলোচনা কেবল সেইসব প্রতিষ্ঠানের সাথেই হওয়া উচিত, যারা আইনত দায়বদ্ধ।”

বাংলাদেশে এলপিপির সঙ্গে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েকটি তৃতীয় পক্ষের বিরোধের কারণে যেন পুরো পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেজন্য বিভ্রান্তিকর প্রচার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।