১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

খোলা বাজারে ডলার এখন ১২৮ টাকা, উল্টো চিত্র ব্যাংকে

ব্যাংকিং চ্যানেলে এভাবে দর কমতে থাকলে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কার কথা বলছেন ব্যাংকাররা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 01:46 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

খোলা বাজারে বাড়তে বাড়তে ডলারের দর ১২৮ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকে লেনদেনের চিত্র এর বিপরীত; আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ১২২ টাকায় নেমেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ১ টাকা ৮১ পয়সা; শতাংশের হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ব্যাংকিং চ্যানেলে এভাবে ডলারের দর কমতে থাকলে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কার কথা বলেছেন ব্যাংকাররা।

এমন প্রেক্ষাপটে দর ধরে রাখতে মাস দুয়েকের ব্যবধানে বাজার থেকে আবার ডলার কেনার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের কাছ থেকে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনির বলেন, “ডলারের দর বাজারের চাহিদা ও জোগানের উপর নির্ভর করে। রেমিটেন্সের উল্লম্ফনের কারণে জোগান বেড়ে গেছে। সে কারণে ডলারের দর কমছে।

“এ কথা ঠিক যে ডলারের দাম কমে গেলে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। তাই দাম যাতে আর না কমে, সেজন্য বাজার থেকে আবার ডলার কেনার আলোচনা হচ্ছে।“

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কমিটি আছে। এ কমিটি যদি মনে করে তাহলে আবার আগের মত ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার নিলামের মাধ্যমে কেনা হবে।

সবশেষ গত ৮ জুন ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছিল।

চলতি ২০২৬-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কোনো ডলার কেনেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার দরের ওঠানামা

বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২২ টাকা ১৫ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা। আর গড় দাম ছিল ১২২ টাকা।

গত ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম ১ টাকা ৮১ পয়সা কমেছে। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ডলারের দাম টানা কমছে কেন¬-এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ খান রেমিটেন্সের জোগান বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি অন্যান্য কেনাকাটায় পরিশোধ কম হওয়ার কথা বলছেন।

“বাড়তে বাড়তে গত মাসের শেষের দিকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। তার প্রধান কারণ ছিল ওই সময় কয়েকটি বড় পেমেন্ট করতে হয়েছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম চড়েছিল,” যোগ করেন তিনি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারাও একই কারণ বলছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুন টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ছিল ১২১ টাকা ৪৯ পয়সা।

বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক স্পট মার্কেটে ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সায়। তবে নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়।

জনতা ব্যাংক স্পট মার্কেটে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়।

বেসরকারি বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক স্পট মার্কেটে ১২২ টাকা ৭২ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২১ টাকা ৭২ পয়সায়। আর নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৫ টাকা ২৫ পয়সায়।

এদিকে ব্যাংকে ডলারের দাম কমলেও খোলা বাজারে চড়ছেই। বুধবার সেখানে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়। কেনা হয়েছে ১২৮ টাকায়।

নাম প্রকাশ না করে মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী ডলারের সরবরাহ কমে যাওয়ার দাবি করে বলেন, কেউ বিক্রি করতে আসে না; সবাই কিনতে চায়। সে কারণেই দাম বাড়ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, “আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে খোলা বাজার মেলালে চলবে না। ওই মার্কেটে ডলারের দর ব্যবসায়ীরা নির্ধারণ করেন।”