১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রয়োজনে বীমা কোম্পানি বিক্রি করে দাবি পরিশোধ: অর্থমন্ত্রী

‘‘যে মানুষটি নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ইন্স্যুরেন্স করে, তাকে কীভাবে বঞ্চিত করা সম্ভব?”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 09:05 PM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে কোম্পানি বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার তিনি প্রথমবার যান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে।

মতিঝিলের দিলকুশায় বীমা ভবনে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে মানুষটি নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ইন্স্যুরেন্স করে, তাকে কীভাবে বঞ্চিত করা সম্ভব? সব সম্পদ (কোম্পানির) বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরও তার দাবি পরিশোধ করা উচিত।’’

বীমা গ্রাহকদের মোট সাত হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া থাকার তথ্য অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

বীমা পুনর্গঠন ও আইন পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা খাতের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হবে।’’

অনেক বীমা কোম্পানির অনিষ্পন্ন দাবির সমপরিমাণ অর্থ বা পর্যাপ্ত সম্পদ নেই, যা মূল্যায়নের বিষয়ে আলোচনা চলার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ না করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব কোম্পানি দাবি পরিশোধ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘‘বীমা কোম্পানির দায়িত্ব হল গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত রাখা। কিন্তু কিছু কোম্পানি গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করে জমি ও অন্যান্য সম্পদ কিনেছে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। এমনকি সরকারি সিকিউরিটিজেও বিনিয়োগ করেছে। অথচ গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করতে হবে।”

বীমা খাতের পরিসর অনেক বড় হলেও জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা উভয় খাতই সেভাবে এগোতে পারেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘বীমাটা আমরা ঠিকভাবে সে জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি। এটা হচ্ছে একটা দিক। আরেকটা হচ্ছে বর্তমান বীমার যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এখানে খুব বেশি সুখবর নেই।’’

ব্যাংকিং খাতের মত বীমা খাতেও দুর্নীতি হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখছি একটা বিশাল ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনেক অনিয়ন্ত্রিত বিষয় হয়েছে বীমা খাতে। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

বীমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৫৭ শতাংশ দাবি এখনো অপরিশোধিত বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনেক কোম্পানি আসল ও ভুয়া- ¬এই দুই ধরনের সার্ভার ব্যবহার করত। এখন দুইটি সার্ভার রাখার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় দুটি সার্ভার পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বীমা কোম্পানি একীভূত বা মার্জার করার আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকিতে যাচ্ছি। প্রত্যেকটি কোম্পানি তাদের সুপারভিশনটা ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে অটোমেশনের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করতে হবে। সবাইকে অটোমেশনে যেতে হবে।

‘‘বীমা খাত যাতে অনিয়ন্ত্রিত খাতে পরিণত না হয়, সেজন্য সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের মতো বীমা খাতেও প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধানে পরিবর্তন আনা দরকার। এ ধরনের পরিবর্তন আগামী দিনে সংসদের মাধ্যমে আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

এসময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বীমা ভবনে পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির বকেয়া হওয়া বীমা দাবির মধ্যে গ্রাহকদের ২৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।