Published : 03 Sep 2026, 07:06 PM
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় আমলে নিয়েই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বোতলে ভরা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করার পরের দিন বৃহস্পতিবার মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
মন্ত্রী বলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য উঠানামা করলে স্থানীয় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমদানি করা তেলের মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি (ফর্মুলা) রয়েছে।
“এফওবি মূল্যের সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বীমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও পরিবহনকালীন অপচয় (ওয়েস্টেজ) যুক্ত করে চূড়ান্ত দর নির্ধারিত হয়। সাধারণ মানুষ বা গণমাধ্যমকর্মীরাও আন্তর্জাতিক ইনডেক্স দেখে সহজেই এই হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।”
এফওবি মূল্য বা এফওবি ভ্যালু হলো জাহাযে তুলে দেওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিক্রেতার যে খরচ সেটি। এরপর বাকি খরচ আমদানিকারক বা ক্রেতার।
বুধবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ভোক্তা স্বার্থ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তুলনামূলক কম হারে দাম সমন্বয় করার দাবি করে সরকার।
ওই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বর্তমানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকরা টানা লোকসানে পড়লে বাজার সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে।
“তাই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উদ্যোক্তারা যেন লোকসানের মুখে ব্যবসা গুটিয়ে না নেন, সেজন্য একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।”
চিনির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় রিফাইনারি মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে। ইউটিলিটি সংক্রান্ত বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে তাদের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাছাড়া পে-স্কেল একবারে নয়, আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। তবে যারা নির্ধারিত সময়ে চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন বাতিল বা কমানো হবে।