‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ জাহাজ রপ্তানি হল যুক্তরাজ্যে

জাহাজটি কন্টেইনার, ভারী স্টিলের কয়েল, খাদ্যশস্য, কাঠের পাশাপাশি বিপজ্জনক মালামাল বহন করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 03:40 PM
Updated : 13 Sept 2022, 03:40 PM

বাংলাদেশে তৈরি ৬ হাজার ১০০ ডেড ওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণ ক্ষমতার সামুদ্রিক জাহাজ রপ্তানি হলো যুক্তরাজ্যে, যেটি বাল্টিক সমুদ্রে চার ফুট বরফ আচ্ছাদিত অবস্থায়ও চলতে পারবে।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে জাহাজটির হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ আজ একটি অত্যাধুনিক মাল্টিপারপাস কন্টেইনার শিপ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করলো, এটা আমাদের গর্বের দিন। জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত।

“অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণে আমাদের দক্ষতা রয়েছে। সমুদ্রসীমা জয় করলেও সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভাবনাময় এ খাত এগিয়ে নেওয়া জরুরি। সরকার এটিকে গুরুত্ব দিয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ী, মোংলা, পায়রাসহ সব বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।’’

আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ বারী বলেন, তারা ২০০৭ সাল থেকে সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে আন্তর্জাতিকমানের জাহাজ নির্মাণ করছেন। এ দেশে আধুনিক জাহাজ নির্মাণের কলাকৌশল ও পদ্ধতি প্রচলন, পরিচিত ও প্রসারিত করেছে আনন্দ শিপইয়ার্ড।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বারী বলেন, “সারা বিশ্বেই শিপ বিল্ডিং ব্যবসা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যায়, আনন্দ শিপইয়ার্ডও তেমন সমস্যায় পড়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে সরকার, ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতায়। এখাত থেকে তৈরি পোশাক খাতের মতো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাহাজটির ক্রেতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যুক্তরাজ্যের এনজিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেড। রপ্তানিকৃত জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৬৪ ফুট, প্রস্থে ৫৪ ফুট এবং গভীরতায় ২৭ ফুট। ৪ হাজার ১৩০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজটি ঘণ্টায় ১২.৫ নটিক্যাল মাইলে চলতে পারবে। এটি কন্টেইনার, ভারী স্টিলের কয়েল, খাদ্যশস্য, কাঠের পাশাপাশি বিপজ্জনক মালামাল বহন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক নীতি) হোসেন আহমেদ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর নিজামুল হক ও ইসলামী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মওলা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক