১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাদে সৌরবিদুৎ: সরকারি হিসাবে ৪১৮ মেগাওয়াট, আইইইএফএ বলছে ১০০০ হতে পারে

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 11:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট, তবে ছোট প্রকল্পসহ প্রকৃত সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস-আইইইএফএ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আইইইএফএর বলছে, বিভিন্ন প্রকৌশল, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নির্মাণকারী কোম্পানির হাতে এখন ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নতুন উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।

‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন: এ মাল্টি কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শিরোনামের ওই গবেষণায় বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি সম্পদ বা ডিইআর বলতে ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্থানের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস ও ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা।

আইইইএফএ বলছে, তিন দেশেই বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে এর বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। বাংলাদেশে শুরুতে এ খাতের অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে শিল্প খাতের আগ্রহের কারণে এখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। তবে আইইইএফএর বিশ্লেষণে বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৬৭ মেগাওয়াট সক্ষমতা পাওয়া গেছে। শূন্য দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো হিসাবে নিলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে।

আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক ও গবেষণাপত্রটির সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, “২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ছিল ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর তুলনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানির হাতে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইপলাইন রয়েছে। তবে শুধু শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন”।