Published : 06 May 2026, 11:17 PM
বেসরকারি শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ প্রশাসকদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নির্ধারিত সভাটি হয়নি।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে গভর্নরের সঙ্গে পাঁচ প্রশাসকের সভাটি নির্ধারিত ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রশাসকদের কোনো সভা হয়নি আজ। সকালে দুইজন প্রশাসক এসেছিলেন, বাকিরা আসেননি।”
কী কারণে সভা হল না, তার ব্যখ্যা দেননি তিনি।
আর্থিক সংকটে ‘জেরবার’ হওয়া শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ চলছে এখন প্রশাসক দিয়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে এসব ব্যাংকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় গত নভেম্বরে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বে আসেন মোস্তাকুর রহমান। এরপর ১৬ মার্চ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব মোহাম্মদ আউয়ুব মিয়া পদত্যাগ করেন। তখন থেকে চেয়ারম্যান শূন্য রয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে একজনের নিয়োগ চূড়ান্ত হলেও তিনি যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে এপ্রিলে জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যেতে আবেদন করে এসআইবিএলের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালকরা।
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার সময়ে তাতে ১৮(ক) ধারা যুক্ত হয়। সেখানে ব্যাংকের সাবেক শেয়ারধারীদের আবার শেয়ার কেনার সুযোগ রাখা হয় কয়েকটি শর্তে।
এরপর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে চলবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে প্রশাসকদের মনেও। আমানতকারী ও ব্যাংকের কর্মীরাও নানা আলোচনা করছেন এ নিয়ে।
এসআইবিএলের আবেদনের পর আরও দুটি ব্যাংক বেরিয়ে যেতে আবেদন করবে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রশাসকদের নিয়ে সভা ডেকেছিলেন গভর্নর।
সভা ডাকার তথ্য দিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেছিলেন, সভায় একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা উত্থাপন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার কথা রয়েছে।