১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারে সতর্কতার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের

“দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Mar 2026, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, “বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।”

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বৃহস্পতিবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের চতুর্দশ সম্মেলনে (এমসি১৪) তিনি এ কথা বলেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফর্ম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুজ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আব্দুল মুক্তাদির।

তার ভাষ্যে, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।

“বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ বা এমএফএন সুবিধা, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বা ডিএফকিউএফ বাজার প্রবেশাধিকার এবং স্পেশাল অ্যান্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট বা এসঅ্যান্ডডিটি সুবিধার মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড মহামারীর সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তবে ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও দেখছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের ভাষায়, “দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।”

সংস্কার প্রক্রিয়া ‘অত্যন্ত সতর্কতার’ সঙ্গে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে, আগের অর্জন অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফল নিশ্চিত করতে হবে।

এবারের সম্মেলনে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ডব্লিউটিও সংস্কার। সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্যরা জেনিভায় আলোচনা শেষে সংস্কারকাজের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছেন, যা এমসি১৪-তে তোলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি, উন্নয়ন ও বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থারে মতো বিষয় এতে রয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো ইওয়েলা মনে করেন, বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা এখন বড় চাপের মুখে আছে। 

তার ভাষায়, সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো কার্যত অচল, আর ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য জানানোর ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য ১৬৬ সদস্যের মধ্যে ৬৪টি সদস্য ভর্তুকি নোটিফিকেশন জমা দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাংলাদেশের জন্য এ আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউটিওর একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে যে বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট কিছু নমনীয়তা রয়েছে, উত্তরণের পর তার একটি অংশ আর থাকবে না। 

ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কৃষি, ট্রিমস, ভর্তুকি, ট্রিপস, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ও সেবা বাণিজ্যসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে। এ কারণে ডব্লিউটিও সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের অবস্থানে সাধারণত উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং বিশেষ সুবিধার ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্ব পায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ৎ

প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।