১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মুনাফার চেয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টিতে জোর দিতে গ্রামীণফোনকে আহ্বান মন্ত্রীর

নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কল ড্রপ ও ডেটা প্যাকেজ সমস্যার সমাধানের জন্যও কোম্পানিটিকে তাগিদ দেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

মুনাফার চেয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টিতে জোর দিতে গ্রামীণফোনকে আহ্বান মন্ত্রীর
গ্রামীণফোন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আয়োজিত ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ– ফেজ ২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 07:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

শুধু ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়ন এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে গ্রামীণফোনকে তাগিদ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই তাগিদ দেন। 

টেলিযোগাযোগে গ্রাহক সেবার মান নিয়ে ‘অসন্তোষের’ কথা তুলে ধরে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে মাহবুব আনাম বলেন, “আপনাদের কল ড্রপ এবং ডেটা প্যাকেজ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে, যা আমাকে প্রায় প্রতিদিনই শুনতে হয়। কেবল লাভজনক ব্যবসার কথা না ভেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং কল ড্রপ ও ডেটা প্যাকেজের সমাধান করা উচিত। মানুষের দাবি পূরণ ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে এটি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।” 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য গ্রামীণফোনের নেওয়া সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আমি আগে ভাবতাম গ্রামীণফোন কেবল একটি মানি মেকিং মেশিন। কিন্তু দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের জন্য তারা যে কাজগুলো করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”    

গ্রামীণফোনকে তাদের সামাজিক কার্যক্রম বিশেষভাবে ট্রান্সজেন্ডার এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়ে তিনি।  

অনুষ্ঠানে বলা হয়, গত আড়াই বছরে ৪০ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন।   

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখেরও বেশি প্রান্তিক মানুষের কাছে ডিজিটাল সেবা ও সচেতনতা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যার ৬৮ শতাংশই নারী। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘পরিবর্তনের পথে তাদের গল্প’ শীর্ষক এক অধিবেশনে প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা কয়েকজন নারী তাদের জীবন সংগ্রামের এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার কাহিনী তুলে ধরেন।  

নারায়ণগঞ্জের ট্রান্সজেন্ডার বিউটিশিয়ান শানু আক্তার তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, “আমি জন্মগতভাবেই একটু ভিন্ন ধরনের হওয়ায় সমাজের অনেকের কটু কথা শুনতে হয়েছে। বাবা সাপোর্ট করতেন না। পার্লারের কাজ শিখতে চাইলেও ফ্যামিলি বাধা দিয়েছিল।”

ফেইসবুকে পার্লারের কাজের ছবি পোস্ট করার সময় নানা আপত্তিকর মন্তব্য এবং বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা বলেন শানু। তিনি বলছেন, পরে গ্রামীণফোনের ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনলাইনে কীভাবে নিরাপদে ছবি পোস্ট করা যায়, প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং খারাপ মন্তব্য রিপোর্ট করা যায় তা শিখে তিনি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন। এখন তার দ্বিতীয় পার্লার খোলার প্রস্তুতি চলছে।

পঞ্চগড় থেকে আসা ফুটবল রেফারি মোনালিসা আক্তার আইরিন বলেন, “মেয়ে হয়ে ফুটবল খেলা, পোশাক পরা নিয়ে গ্রামে অনেক ধরনের খারাপ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হত। বুলিংয়ের শিকার হয়ে ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে ‘ইউথ ফর চেঞ্জ’ এর সেশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় শেখার পর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।”

আইরিন বলেন, ইনজুরির কারণে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, তিনি এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেফারি এবং পঞ্চগড় জেলার একমাত্র নারী রেফারি।

মিরপুরের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অন্তরা আক্তার তার গল্পে বলেন, খুব অল্প বয়সে বিয়ের পর স্বামীর আর্থিক কষ্টের সময় ‘অপরাজিতা বাংলাদেশ’ এর সেশন থেকে স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে তিনি নিজের দোকান শুরু করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ। 

অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রসারের ওপর একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএ এর সিনিয়র মার্কেট এঙ্গেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।