Published : 07 Sep 2026, 10:04 PM
কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে এক আলোচনা সভায় প্রতিষ্ঠানের ‘শেয়ার বাইব্যাক (শেয়ার পুনঃক্রয়)’ ধারা সংযুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর উদ্যোগে ‘কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর খসড়া সংশোধনী’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এমন পরামর্শ দিয়েছি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার বাইব্যাক সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেও দীর্ঘ সময়ে তা আইনে অন্তূর্ভক্ত করা হয়নি। এবারের সংশোধনিতেও বাইব্যাক প্রস্তাবটি নেই।
শেয়ার বাইব্যাক অর্থ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ারের দর অভিহিত মূল্যের (প্রিমিয়াম থাকলে তা সহ) চেয়ে কম দরে লেনদেন হলে বাজার থেকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে শেয়ার পুনঃক্রয়ের বিধান। এর মাধ্যমে কোম্পানি দায়বদ্ধ করা হয়। অনেক দেশেই এমন নিয়ম প্রচলিত আছে।
কোম্পানি আইন সংশোধনে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে উদাহরণ নেওয়ার তাগাদা দিয়ে অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সংশোধানী চূড়ান্ত করতে অন্যান্য দেশে কি আছে তা দেখতে পারেন। সেখান থেকে ভালো কিছু উদাহরণ নিতে পারেন। যা ভালো, আমরা তা যোগ করব।
“প্রয়োজনে সময় নেন। কিন্তু ৩০ দিনের মধ্যে করতে পারলে ভালো। যেটা প্রস্তাব করবেন, সেটা যেন উত্তম হয়।”
কোম্পানি আইন যুগোপযোগী করার উদ্দেশ্য তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন; যাতে আপনারা স্বাচ্ছন্দে ব্যবসাটা করতে পারেন। এখানে প্রতিবন্ধকতা তো আছে।
‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিশাল বড় রিজার্ভ পাই নাই। বিশাল রাজস্ব পাই নাই। বিশাল বড় বাজেট সাপোর্ট পাই নাই। তারপরও অর্থনীতি এগিয়ে নিতে হবে।’”
দেশের অর্থনীতি একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এটা এমন একটা রূপান্তরের সময় আমাদের সবার জন্য, যখন মাথা ঠান্ডা রেখে একটা ভালো পরিকল্পনা নিয়ে সময়টা পার হতে হবে। এ সময়ে ধৈর্য ধরে ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সরকার চেষ্টা করবে ভালো একটি ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে।”
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আগামী তিন বছরে সরকারকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে মাত্র একটি।’’
শেয়ার বাইব্যাক সুবিধা চালুসহ তালিকাভুক্তির সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রসপেক্টাস অনুমোদনের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “কোম্পানি আইনকে সময়োপযোগী করতে শুধু বড় ধরনের পরিবর্তন নয়, বিভিন্ন ধারায় কিছু ছোটখাট সংশোধনও প্রয়োজন। এসব সংশোধন করা হলে আইনটি আধুনিক ব্যবসাব্যবস্থার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।”
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক সভায় কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তথ্য দিয়ে আবুল কালাম বলেন, “প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেসবের কয়েকটি প্রতিফলিত হয়নি। এর মধ্যে শেয়ার বাইব্যাকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, তা এখানে নেই।’’
বিদ্যমান আইনে কোম্পানির শেয়ার কিনতে বিধিনিষেধ রয়েছে। অন্তত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করারও প্রস্তাব করেন তিনি।
এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির। কোম্পানির বার্ষিক আয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে কোম্পানি সচিব নিয়োগ রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন তিনি।
এছাড়া তারিখ ঘোষণার ২১ দিনের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করার বিধান যুক্ত, তালিকাভুক্ত ছাড়া অন্য কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে স্বাধীনতা দেওয়ারও তিনি প্রস্তাব করেন।
অন্যদিকে তারিখ ঘোষণার ১৪ দিনে এজিএম করার বিধান আনার প্রস্তাব করেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।