Published : 17 Aug 2026, 06:43 PM
দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ‘সার্কুলার অর্থনীতি’ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ।
এর মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে দাবি করেছে সরকার।
সার্কুলার অর্থনীতি হল এমন এক টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে সম্পদ ব্যবহার শেষে বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে তা পুনঃব্যবহার, মেরামত ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদন চক্রে ফিরিয়ে আনা হয়। এর মূল লক্ষ্য, সম্পদের অপচয় এবং প্রকৃতির ওপর চাপ কমানো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ক্লাইমেট নীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ এমওইউ সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে দেশটির ক্লাইমেট এন্ড গ্রিন গ্রোথ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টজে ভ্যান ভেল্ডহোভেন।
দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি সই করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা যেহেতু বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত, তাই এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
“বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।”
মন্ত্রীর ভাষায়, এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।”
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট এন্ড গ্রিন গ্রোথ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টজে ভ্যান ভেল্ডহোভেন বলেন, “সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এই রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডসের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এমওইউ সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল উপস্থিত ছিলেন।